সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজেদের ঘরের ছেলেকে দীর্ঘমেয়াদে ওল্ড ট্রাফোর্ডের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ক্লাবটির অন্তর্বর্তীকালীন কোচের ভূমিকা থেকে এবার স্থায়ী ‘হেড কোচ’ হিসেবে মাইকেল ক্যারিকের নাম চূড়ান্ত করেছে রেড ডেভিলসরা। দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তিপত্রের খসড়া বিনিময়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ক্লাবের পক্ষ থেকে আসবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
সবকিছু ঠিক থাকলে ক্যারিক প্রাথমিকভাবে দুই বছরের চুক্তি সই করবেন, যেখানে পরবর্তী সময়ে আরও ১২ মাস চুক্তি বাড়ানোর বিকল্প শর্ত (অপশন) থাকবে। আগামী রবিবার নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষেই তিনি স্থায়ী কোচ হিসেবে ডাগআউটে দাঁড়াতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও মৌসুমের শেষ হোম ম্যাচের আগেই সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে চাইছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
অ্যামোরিম ব্যর্থতার পর ক্যারিক যেভাবে ‘ত্রাতা’
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পর্তুগিজ কোচ রুবেন অ্যামোরিমকে বরখাস্ত করার পর যখন ওল্ড ট্রাফোর্ডের আকাশে মেঘ জমেছিল, তখন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন ৪৪ বছর বয়সী ক্যারিক। সে সময় রেড ডেভিলসদের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট পাওয়াটা রূপকথার মতো মনে হচ্ছিল।
কিন্তু ক্যারিকের জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় ওল্ড ট্রাফোর্ডের চিত্র বদলে যায় অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। তাঁর অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এতটাই দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে যে, আগামী রবিবার নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে কেবল হার এড়ালেই লিগ টেবিলে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলবে তারা। ওল্ড ট্রাফোর্ডের মৌসুম বাঁচানোর এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের পর ইউনাইটেডের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ওমর বেরাদা এবং ডিরেক্টর অব ফুটবল জেসন উইলকক্স ক্লাব মালিক ‘ইনোস’ (Ineos)-এর কাছে ক্যারিককে স্থায়ী কোচ করার জোর সুপারিশ করেন, যা বোর্ডের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন পায়।
আরও পড়ুন:
ক্যারিক ম্যাজিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ১৬ মিলিয়ন পাউন্ড নিশ্চিত!
‘বাধ্য হলো’ ইউনাইটেড
জানুয়ারিতে যখন ক্যারিককে স্বল্পমেয়াদে আনা হয়েছিল, তখন ক্লাবের সামনে অন্য বিকল্পও খোলা ছিল। কিন্তু একের পর এক ম্যাচ জিতে ক্যারিক ম্যানেজমেন্টকে অন্য কোনো নাম ভাবার সুযোগই দেননি।
বড় ম্যাচের মাস্টারক্লাস: ম্যানচেস্টার সিটিকে হারানোর পর এমিরেটসে ম্যাথিউস কুনিয়ার শেষ মুহূর্তের গোলে আর্সেনালকে বধ করে ক্যারিকের ইউনাইটেড।
টানা জয়: দায়িত্ব নিয়েই প্রথম ৪ ম্যাচে টানা জয়, এরপর ৭ ম্যাচের মধ্যে ৬টিতেই জয় এনে দেন তিনি। নিউক্যাসলের কাছে একমাত্র হারের জন্য খেলোয়াড়দের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও ক্যারিকের কৌশলে আস্থা হারায়নি বোর্ড।
চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানো: ১৩ এপ্রিল লিডসের বিপক্ষে ভুল দল নির্বাচনের কারণে হেরে বসার পর তুমুল চাপের মুখে পড়েছিলেন ক্যারিক। কিন্তু চেলসি, ব্রেন্টফোর্ড ও লিভারপুলের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে টানা ৩ ম্যাচ জিতে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন তিনি।
থমাস টুখেল, কার্লো আনচেলত্তি কিংবা লুইস এনরিকের মতো হাইপ্রোফাইল কোচরা যখন নিজ নিজ চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ইউনাইটেডের রেস থেকে ছিটকে যাচ্ছিলেন, তখন ক্যারিক ওল্ড ট্রাফোর্ডের ড্রেসিংরুমের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন।
ব্রুনো ফার্নান্দেস, কোবি মাইনো, আমাদ দিয়ালো, ক্যাসেমিরো ও মেসন মাউন্টের মতো দলের সিনিয়র ও প্রভাবশালী তারকারা প্রকাশ্যেই ক্যারিককে স্থায়ী করার দাবি তোলেন। ফলে এই মুহূর্তে ক্যারিককে বাদ দেওয়াটাই ক্লাবের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াত।
আর তাই যোগ্য ব্যক্তি হিসেবেই রেড ডেভিলসদের স্থায়ী ডাগআউট এখন ক্যারিকের অধীনে।
আরও পড়ুন:
বায়ার্ন থেকে হ্যারি কেইনকে আনতে চায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড!

