দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বহুল প্রতীক্ষিত পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৭ জুন। গত বছরের ৬ অক্টোবরের পর মাত্র আট মাসের ব্যবধানে এটি বোর্ডের দ্বিতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ১৮৪ জনের খসড়া ভোটার তালিকা ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিসিবির নির্বাচন কমিশন। চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থীদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ভোটের টেবিলে।
নতুন এই নির্বাচনে পুরোনো কৌশল ব্যবহারের কারণে কাউন্সিলরদের তালিকায় এসেছে এক বিশাল রদবদল, যেখানে সাতটি বিভাগীয় কাউন্সিলরের সবাই নতুন মুখ।
ড় এই রদবদলের মাঝে মনোনয়ন দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে অনেক পরিচালকই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন।
জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় (ক্যাটাগরি-১) থেকে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১২ জন, যার মধ্যে নির্বাচিত হবেন ১০ জন।
চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী জেলা থেকে প্রার্থী হওয়া শরিফুল ইসলাম অপু শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক হতে যাচ্ছেন জাতীয় দলের সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং মঈন উদ্দিন।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে ১ জন করে পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার কথা।
নির্বাচনেও এই ৩ বিভাগ থেকেই মাত্র ১ জন করেই মনোনয়ন দাখিল করায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে বসে আছেন।
ঢাকা বিভাগ থেকে ২ পদের বিপরীতে ৩ জন মনোনয়ন তুললেও যাচাই-বাছাইয়ে একজন বাদ পড়ায় এখানকার সমীকরণও চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন যারা
ভোটের ঝামেলা ছাড়াই ইতিমধ্যেই বিসিবির পরিচালক হওয়া নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রীড়া সংস্থার মির্জা ফয়সাল আমীন। ঢাকা বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সাঈদ বিন জামান এবং এস এম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থা, শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত ক্যাটাগরি-৩ থেকে একাই মনোনয়ন দাখিল করে এবং বৈধতা নিয়ে এককভাবে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর।
খুলনা ও বরিশালে ভোটের লড়াই
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভিড়ে ক্যাটাগরি-১ এর বাকি দুই বিভাগে বসছে ভোটের লড়াই।
খুলনা বিভাগ থেকে দুটি পরিচালক পদের বিপরীতে নির্বাচনে লড়বেন ৩ জন প্রার্থী। তারা হলেন—শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম এবং আব্দুস সালাম।
এই লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত শফিকুল ও শান্তনু কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে এগিয়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগ থেকে মাত্র ১টি পরিচালক পদের জন্য ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন ২ জন প্রার্থী—মিজানুর রহমান এবং মুনতাসির আলম চৌধুরী।
এই একক পদের লড়াইয়ে মিজানুর রহমান জয়ের দৌড়ে বেশ এগিয়ে আছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
ক্লাব পাড়ায় ভোটের সমীকরণ: ১৬ প্রার্থীর লড়াই
বিসিবির নির্বাচনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ক্যাটাগরি-২ অর্থাৎ ঢাকার ক্লাবগুলো থেকে মনোনয়ন তোলা ও প্রত্যাহারের শেষ দিনে ১৬ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা চূড়ান্ত ও বহাল রয়েছে। এই ১৬ জনের মধ্য থেকেই নির্বাচিত পরিচালকরা আসবেন।
চূড়ান্ত তালিকায় বহাল থাকা প্রার্থীরা হলেন:
তামিম ইকবাল (ওল্ড ডিওএইচএস), ফাহিম সিনহা (আবাহনী), মাসুদুজ্জামান (মোহামেডান), রফিকুল ইসলাম বাবু (ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র), সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ (ফেয়ার ফাইটার্স), ইসরাফিল খসরু (এক্সিয়ম ক্রিকেটার্স), মীর্জা ইয়াসির আব্বাস (আজাদ স্পোর্টিং), শানিয়ান তানিম (মেরিনার্স ইয়াংস), আমজাদ হোসেন (ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্স), সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু (তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমি), সাকিফ আহমেদ সালাম (পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব), আসিফ রাব্বানী (শাইনপুকুর), ফায়াজুর রহমান মিতু (উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব), অধ্যাপক ড. সরকার মাহবুব হোসেন শামিম (ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব), মেজর ইমরোজ (কাঁঠালবাগান ক্রিসেন্ট ক্লাব) এবং ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক (ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব)।
১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে এই মুহূর্তে পরিচালক হওয়ার দৌড়ে ও কাউন্সিলরদের সমীকরণে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা: মাহবুব শামীম এবং ফায়াজুর রহমান।
কাউন্সিলর তালিকায় রদবদল
গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এই বর্তমান কমিটির ৮ জনই কাউন্সিলর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তবে অ্যাডহক কমিটির সদস্য সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান, মির্জা সালমান ইস্পাহানি ও রাশনা ইমাম এবার কাউন্সিলর হতে পারেননি। বুলবুলের সর্বশেষ বোর্ডের পরিচালকদের মধ্যে মাত্র ৫ জন (আমজাদ হোসেন, ফৈয়াজুর রহমান, শানিয়ান তানিম নাভিন, আবুল বাসার ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল) কাউন্সিলর হতে পেরেছেন।
সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে, দেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠক এনায়েত হোসেন সিরাজ, মাহবুবুল আনাম, আহমেদ সাজ্জাদুল আলম, জালাল ইউনুস ও লোকমান হোসেন ভূঁইয়াদের মতো চেনা মুখগুলো এবার খসড়া তালিকা থেকেই বাদ পড়েছেন। তবে আলফা স্পোর্টিং ক্লাব থেকে কাউন্সিলর হয়েছেন মাহবুব আনামের ছেলে মাশরুর আনাম চৌধুরী।
সাবেক অধিনায়ক কোটায় কাউন্সিলর হয়েছেন শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও হাবিবুল বাশার সুমন।
এছাড়া রকিবুল হাসান ও মোহাম্মদ আশরাফুলের জায়গায় নতুন কাউন্সিলর হয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
এখন ৭ জুনের এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনের দিকেই এখন তাকিয়ে দেশের পুরো ক্রিকেট মহল। যদিও ফলাফল অনুমেয়ই!
আরও পড়ুন:
বিসিবি নির্বাচনে ১৮৪ ভোটারের তালিকায় যারা আছেন, যারা নেই

