Towhid Hridoy celebrating his brilliant century for Mohammedan SC in DPL 2026.সেঞ্চুরির পর তাওহিদ হৃদয়।

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) আজ মঙ্গলবার ব্যাট ও বলের এক অবিশ্বাস্য মহাকাব্যিক দিন পার করলেন দেশের ক্রিকেটাররা। বোলারদের শাসন করে এক দিনেই দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে হয়েছে মোট ৫টি সেঞ্চুরি। যেখানে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন জাতীয় দলের দুই তারকা তাওহীদ হৃদয় ও তানজিদ হাসান তামিম। ব্যাটারদের এমন রান উৎসবের দিনেও বল হাতে আলাদা করে আলো কেড়েছেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল, যিনি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারসহ শিকার করেছেন ৬ উইকেট। মেগা টুর্নামেন্টের এই রোমাঞ্চকর দিনে মাঠের লড়াইয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আবাহনী লিমিটেড এবং প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।

হৃদয়ের শতকে শীর্ষে মোহামেডান, খরুচে রানা

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে এনামুল হক বিজয়ের ফিফটি (৫০) এবং মোহাম্মদ নাঈমের ব্যাটে ৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় মোহামেডান। সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আফিফ হোসেন ধ্রুবর ৭০ রানের পর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন তাওহীদ হৃদয়।

১০৬ বলে ১০১ রানের এক দর্শনীয় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে মোহামেডানকে ৩৪০ রানের পাহাড়সম পুঁজিতে পৌঁছে দেন হৃদয়।

জবাবে রান তাড়া করতে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করেন রূপগঞ্জের হাবিবুর রহমান। জাতীয় দলের গতি তারকা নাহিদ রানার এক ওভার থেকে ২৬ এবং তাসকিন আহমেদের ওভার থেকে ২৫ রান তুলে নিয়ে মাত্র ১৫ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন হাবিবুর।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সব সংস্করণ মিলিয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডে পারভেজ হোসেন ইমনের পাশে নাম লেখান তিনি।

তবে ২৭ বলে ৫৯ রান করা হাবিবুর আউট হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে রূপগঞ্জের ইনিংস। জাতীয় দলের দুই অধিনায়ক লিটন দাস (১৮) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (১) আজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ৩৪ ওভারে ২৩২ রানেই অলআউট হয় রূপগঞ্জ। মোহামেডানের হয়ে ৭১ রানে ৪ উইকেট নেন নাহিদ রানা।

৮ ম্যাচে ৭ জয় নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করল মোহামেডান।

মাহিদুলের সেঞ্চুরিতে আবাহনীর দাপট

দিনের অন্য ম্যাচে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে আবাহনী লিমিটেডের মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন খেলেন ১০২ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস। ৯৫ বলের এই ইনিংসে তিনি হাঁকান ৮টি চার ও ৬টি ছক্কা, যার ওপর ভর করে ৩১৫ রানের বড় লক্ষ্য দাঁড় করায় আবাহনী। এই রান তাড়া করতে নেমে আবাহনীর বোলার নাঈমুর রহমান নয়নের (৩ উইকেট) তোপে পড়ে মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় গুলশান ক্রিকেট ক্লাব। ১৫৫ রানের এই বিশাল জয়ে ৮ ম্যাচে ৬ জয় নিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে শিরোপার দৌড়ে ভালোভাবেই টিকে রইল।

জোড়া শতকে প্রাইম ব্যাংকের পাহাড়

বিকেএসপির মাঠে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বোলারদের তুলোধোনা করেছেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও শাহাদাত হোসেন দিপু।

উদ্বোধনী জুটিতেই এই দুজন যোগ করেন ২১০ রান। তানজিদ ৯৩ বলে ১১৯ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, আর দিপুর ব্যাট থেকে আসে ১১১ বলে ১০৫ রান। শেষ দিকে শামীম পাটোয়ারীর ৩১ বলে ৫১ রানের ঝড়ে ৫ উইকেটে ৩৬৯ রানের এভারেস্টসম স্কোর গড়ে প্রাইম ব্যাংক। জবাবে ব্রাদার্স ৫ উইকেটে ৮৬ রান করার পর বৃষ্টি নামলে ডিএলএস (বৃষ্টি) আইনে ১৫৫ রানের বড় জয় পায় প্রাইম ব্যাংক।

অগ্রণী ব্যাংকের অবিশ্বাস্য জয়

সিটি ক্লাবের হয়ে ১৪৫ বলে ১৫১ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন আবদুল্লাহ আল মামুন।

তাঁর এই দেড় শতকের ওপর ভর করে ৩২৬ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় সিটি ক্লাব। তবে মামুনের এই ইনিংসকে ম্লান করে দিয়ে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে অবিশ্বাস্য জয় উপহার দেন ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম। তাঁর ১৪১ বলে ১৪৭ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংসে ভর করে ২ বল হাতে রেখেই ৩২৭ রান তাড়া করে জয় নিশ্চিত করে অগ্রণী ব্যাংক।

রহস্য স্পিনার রুবেলের ৬ উইকেট

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ঢাকা লেপার্ডসের বিপক্ষে নিজের লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের মাত্র সপ্তম ম্যাচ খেলতে নেমে রূপকথা তৈরি করেছেন গাজী গ্রুপের রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। মাত্র ২৩ রান খরচ করে তিনি একাই ধসিয়ে দেন লেপার্ডসের ব্যাটিং লাইনআপ, তুলে নেন ৬টি উইকেট। তাঁর স্পিন ঘূর্ণিতে ১৫৩ রানেই অলআউট হয় লেপার্ডস। তবে এই সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১৩৭ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে গাজী গ্রুপ।

শেষ উইকেটে লিয়ন হোসেনের ১৪ ও আরিদুলের ৩ রানের কল্যাণে ১ উইকেটের এক নাটকীয় জয় পায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।

উল্লেখ্য, ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে অনুষ্ঠিত বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ও রূপগঞ্জ টাইগার্সের ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে স্থগিত হওয়ায় তা আগামীকাল রিজার্ভ ডেতে গড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ডিপিএলে আবাহনী-মোহামেডানসহ অন্যরা কে কোথায়