উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনাল যখন প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) মুখোমুখি হবে, তখন তাদের সামনে কেবল একটি ফুটবল দল নয়, বরং এক নিখুঁত ‘প্যাকেজ’ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। লুইস এনরিকে পিএসজিকে যেভাবে নতুন করে গড়েছেন, তাতে এই দলটিকে এখন ইউরোপের সেরা বলা হচ্ছে। ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে আর্সেনালের সামনে অপেক্ষা করছে এক অগ্নিপরীক্ষা।
সুপারস্টার যুগ থেকে শ্রমনির্ভর দল
লুইস এনরিকের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো তিনি পিএসজিকে লিওনেল মেসি, নেইমার আর কিলিয়ান এমবাপের সেই তথাকথিত ‘সুপারস্টার যুগ’ থেকে বের করে এনেছেন। এক সময়ের পিএসজি ছিল অহংকারে পূর্ণ এক দল, যেখানে ব্যক্তি বড় ছিল দলের চেয়ে।
কিন্তু এনরিকে এসে সেই সংস্কৃতি বদলে দিয়েছেন। তাঁর অধীনে খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের ইগো বিসর্জন দিয়ে লড়াকু মানসিকতা গড়ে তুলেছেন। বার্সেলোনার হয়ে ২০১৫ সালে ট্রেবল জেতা এই মাস্টারমাইন্ড পিএসজিকে একটি সুশৃঙ্খল ও অদম্য শক্তিতে রূপান্তর করেছেন।
আরও পড়ুন:
২০ বছর পর যেভাবে ‘রাজকীয়ভাবে’ ইউরোপ জয়ের পথে আর্সেনাল
রক্ষণের প্রাচীর: মার্কুইনহোস ও উইলিয়ান পাচো
পিএসজির এই বদলে যাওয়ার অন্যতম কাণ্ডারি ৩১ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্কুইনহোস। এনরিকের সংস্কার অভিযানে অনেক বড় নাম বাদ পড়লেও মার্কুইনহোস টিকে গেছেন তাঁর পেশাদারিত্ব আর বিশ্বমানের ডিফেন্সের কারণে। উইলিয়ান পাচোর সঙ্গে তাঁর জুটি বায়ার্নের হ্যারি কেনকেও বোতলবন্দী করে রেখেছিল।
সাবেক লিভারপুল অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ডের মতে, “কয়েক বছর আগেও এই দলে প্রিমা ডোনা আর ইগো ছিল, কিন্তু এনরিকে তা হতে দেননি। তিনি কঠোর পরিশ্রম আর নীতি দিয়ে এই দল গড়েছেন যা বছরের পর বছর রাজত্ব করতে পারে।”
মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের নিখুঁত সমন্বয়
ভিতিনহা, ফাবিয়ান রুইজ এবং জোয়াও নেভেস—এই তিনজনকে নিয়ে গঠিত পিএসজির মাঝমাঠ এখন ইউরোপের যেকোনো দলের জন্য ভয়ের কারণ। বিশেষ করে রুইজ যেভাবে দেম্বেলেকে দিয়ে গোল করালেন এবং পরে রক্ষণাত্মক কাজে নিজেকে উজার করে দিলেন, তা এনরিকের নির্দেশনারই প্রতিফলন।
উসমান দেম্বেলে, যিনি বার্সেলোনায় এক সময় খাপছাড়া ছিলেন, তিনি এখন এনরিকের ছোঁয়ায় ব্যালন ডি’অর জয়ের উচ্চতায় পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, ২০ বছর বয়সী ডেজিরে দুয়ে এই নতুন পিএসজির এক ভয়ংকর মুখ।
আর্সেনালের জন্য সতর্কবার্তা: বিশেষজ্ঞ মত
সাবেক লিভারপুল ডিফেন্ডার স্টিফেন ওয়ার্নক মনে করেন, এই পিএসজিকে আটকানো আর্সেনালের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। তিনি বলেন, “পিএসজির কোনো দুর্বলতা খুঁজে পাওয়া ভার। আর্সেনালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পিএসজির ফুল-ব্যাকদের সামলানো। বুকায়ো সাকা এবং ট্রোসার্ডকে যেমন আক্রমণ করতে হবে, তেমনি পিএসজির আক্রমণভাগের সাথে সমান তালে রক্ষণও করতে হবে।”
পিএসজি সেমিফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে বায়ার্নকে হারিয়ে নিজেদের দাপট প্রমাণ করেছে। লিভারপুলের মতো শক্তিশালী দলকেও তারা কোয়ার্টার ফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল। লুইস এনরিকে এমন এক দল বানিয়েছেন যারা আক্রমণে যেমন উজ্জ্বল, রক্ষণে তেমনি সুশৃঙ্খল।
বুদাপেস্টের ফাইনালে মিকেল আরতেতার আর্সেনাল কি পারবে ইউরোপের এই সেরা ‘অপারেটরদের’ গতিরোধ করতে? উত্তর মিলবে ৩০ মে।
আরও পড়ুন:
প্যারিসের রূপকথা: ৬৬ বছর পর ৯ গোল, এ যেন শৈল্পিক থ্রিলার!

