রিয়াল মাদ্রিদেই থাকতে চেয়েছিলেন ডি মারিয়াডি মারিয়া। ছবি: গেটি ইমেজেস

রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সিতে চার বছর কাটিয়েছেন। জিতেছেন বহু আকাঙ্ক্ষিত ‘লা ডেসিমা’ বা দশম চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। তবুও সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার বিদায়টা ছিল অম্লমধুর। দীর্ঘ সময় পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ (AS)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, ক্লাব ছাড়া এবং রিয়ালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অকপট কথা বলেছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।

“রিয়ালকে না বলা অসম্ভব ছিল”

২০১০ সালে বেনফিকা থেকে ২৫ মিলিয়ন ইউরো এবং বাড়তি ১১ মিলিয়ন ইউরো ইনসেনটিভের বিনিময়ে রিয়ালে যোগ দিয়েছিলেন ডি মারিয়া। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যখন রিয়াল মাদ্রিদ আপনাকে ডাকে, তখন ‘না’ বলা অসম্ভব। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব এবং সেখানে যাওয়াটা ছিল এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়।”

রিয়ালে তার শুরুর দিনগুলো ছিল হোসে মরিনহোর অধীনে। মরিনহোর প্রতি নিজের অগাধ শ্রদ্ধার কথা জানিয়ে ডি মারিয়া বলেন, “মৌ (মরিনহো) হলেন এক নম্বর। মানুষ এবং কোচ হিসেবে তিনি অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। খেলোয়াড়, দল এবং ক্লাবের জন্য তিনি যা করেন তা অতুলনীয়। তিনি আমাকে সবকিছু দিয়েছেন এবং আমি চিরকাল তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।”

জাবি আলোনসোর বিদায় ও মাদ্রিদের চাপ

সাক্ষাৎকারে রিয়ালের সাম্প্রতিক কোচিং পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেন ডি মারিয়া। জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তে তিনি কিছুটা অবাক হয়েছেন।

এমবাপ্পের মন্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, “এমবাপ্পে ঠিকই বলেছে যে এটি ব্যর্থতা ছিল না। বার্সেলোনার কাছে শুধু সুপার কাপের ফাইনালে হার তেমন বড় কোনো বিপর্যয় নয়। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদে ধৈর্যের বড়ই অভাব। এই ক্লাবে চাপ সামলানো সহজ নয় এবং সবাই এখানে দ্রুত ফলাফল চায়।”

আলোনসোর পরিবর্তে দায়িত্ব পাওয়া আলভারো আরবেলোয়া সম্পর্কে ডি মারিয়া বলেন, “কোচ হিসেবে সে কেমন আমি জানি না। তবে মানুষ হিসেবে সে দারুণ এবং আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো ছিল। সে শুরুটা ভালো না করলেও এখন পরিস্থিতি সামলে নিচ্ছে।”

বিদায়বেলার সেই ‘মিথ্যা’ ও জেমস রদ্রিগেজ ফ্যাক্টর

ডি মারিয়ার রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পেছনে একটি জনপ্রিয় গুঞ্জন ছিল যে, তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সমান বেতন চেয়েছিলেন। এই দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

মর্মস্পর্শী কণ্ঠে ডি মারিয়া বলেন, “আমি মাদ্রিদ ছাড়তে চাইনি। রটেছিল যে আমি নাকি ক্রিশ্চিয়ানোর সমান বেতন চেয়েছি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। যে মানুষটি একাধিক ব্যালন ডি’অর জিতেছে, আমি কীভাবে তার সমান বেতন আশা করতে পারি? আমি সেখানে খুব সুখে ছিলাম। আনচেলত্তিও চেয়েছিলেন আমি থেকে যাই। কিন্তু তখন জেমস রদ্রিগেজ চলে এসেছিল এবং আমাকে বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়েছিল।”

মাদ্রিদ থেকে তার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যাওয়ার ঘটনাটি ছিল নাটকীয়। ডি মারিয়া জানান, তিনি শেষ দিন পর্যন্ত অনুশীলন চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সুপার কাপের প্রথম লেগে খেললেও দ্বিতীয় লেগে তাকে দলেই রাখা হয়নি। কারণ, তার অজান্তেই ইউনাইটেডের সাথে চুক্তি সেরে ফেলেছিল রিয়াল কর্তৃপক্ষ।

বেনফিকা ও রিয়াল মাদ্রিদ—দুই ক্লাবের প্রতিই তার ভালোবাসা সমান। চ্যাম্পিয়নস লিগে এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে কার পক্ষ নেবেন?

হেসেই উত্তর দিলেন, “আমি মাঝখানেই থাকছি। মাদ্রিদ প্রায় নকআউট পর্বে পৌঁছে গেছে, বেনফিকার কাজটা কঠিন। আমি কোনো পক্ষ নিতে পারব না। ঈশ্বর যা চান তাই হোক।”