দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবল শাসন করেছেন লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তাঁদের দ্বৈরথ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। সম্প্রতি ‘লো দেল পোলো’ (Lo del Pollo) অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে সেই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে মনখোলা কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।
রোনালদোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মেসি
মেসি ও রোনালদোর ব্যক্তিগত শত্রুতা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তবে সাক্ষাৎকারে মেসি এক চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে আসলে কখনোই কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না।”
আর্জেন্টাইন তারকা স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের মধ্যে কোনো শত্রুতা ছিল না, তবে মাঠের বাইরে তাঁদের যোগাযোগও ছিল না বললেই চলে।
মেসি বলেন, “আমাদের সম্পর্ক সব সময় সম্মানজনক এবং পেশাদার ছিল। মাঠের বাইরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ছাড়া আমাদের খুব একটা দেখা হতো না।”
তিনি আরও জানান, বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ দ্বৈরথ এবং মিডিয়ার চাপের কারণে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল, যা আসলে দুজনকে সেরা হতে সাহায্য করেছে।
আরও পড়ুন:
মেসির প্রিয় ‘অসাধারণ’ তারকাকে পেতে আর্সেনালের তোড়জোড়
নেইমারকে নিয়ে আনচেলত্তিকে বার্তা!
বন্ধু নেইমার জুনিয়রের ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মেসি। ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতি যেন এক সূক্ষ্ম বার্তাই দিলেন ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক।
মেসি বলেন, “আমি নিরপেক্ষ হতে পারব না, কারণ নেইমার আমার বন্ধু। আমি মন থেকে চাই সে বিশ্বকাপে থাকুক। ফুটবলের স্বার্থেই নেইমারকে বিশ্বকাপে দরকার।”
চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা নেইমারের ফিটনেস নিয়ে যখন সমালোচনা চলছে, তখন মেসি তাঁকে আগলে রেখেছেন।
তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে আমরা সেরা খেলোয়াড়দের দেখতে চাই। নেইমার কোন শারীরিক অবস্থায় আছে সেটা বড় কথা নয়, ও সবসময়ই সেরাদের একজন। ও যা অর্জন করেছে, তাতে বিশ্বকাপে থাকাটা ওর প্রাপ্য।”
মেসি যখন সাক্ষাৎকার দেন, তখনো ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়নি। তবে সর্বশেষ তথ্য হচ্ছে, আনচেলত্তি নেইমারকে প্রাথমিক স্কোয়াডে রেখেছেন।
ভিন্ন পথে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী
বর্তমানে মেসি খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে, আর রোনালদো সৌদি আরবের আল-নাসরে। এখন আর প্রতি সপ্তাহে তাঁদের মুখোমুখি হতে দেখা যায় না। তবে মেসি স্বীকার করেছেন যে, সেই সময়টা ছিল ফুটবলের সোনালী যুগ। মেসি-রোনালদোর সেই লড়াই যে ফুটবলকে চিরতরে বদলে দিয়েছে, তা আজ পুরো বিশ্ব একবাক্যে স্বীকার করে।
সাক্ষাৎকার শেষে মেসির কণ্ঠে কিছুটা নস্টালজিয়াও ঝরে পড়ে। কোটি কোটি ভক্তের মতো তিনিও হয়তো বুঝতে পারছেন, একটি যুগের অবসান হতে চলেছে। কিন্তু মাঠের লড়াই ছাপিয়ে যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে, তা আজও অটুট।
আরও পড়ুন:
মেসির সামনে ইন্টার মায়ামিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির হাতছানি!

