আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাদা পোশাকের লড়াই শেষ হতেই চেনা আঙিনায় ফিরেছেন দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) সপ্তম রাউন্ডে মাঠ কাঁপালেন জাতীয় দলের তারকারা। সংস্করণ বদলালেও পারফরম্যান্সে এতটুকু মরচে ধরেনি নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম কিংবা তাইজুল ইসলামদের। শান্তর রাজকীয় সেঞ্চুরি, মুশফিকের দায়িত্বশীল ফিফটি আর তাইজুলের ৫ উইকেটের ঘূর্ণি জাদুতে ডিপিএলের হাইভোল্টেজ ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
সপ্তম রাউন্ডের খেলা শেষে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মোহামেডান। ৭ ম্যাচের ৬টিতেই জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে শীর্ষে ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইটরা। তবে সমান ম্যাচে ৫টি করে জয় নিয়ে শিরোপার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে আছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। লিগের প্রথম পর্বে এখনো চার রাউন্ডের খেলা বাকি থাকায় লড়াই জমে উঠেছে বেশ।
শান্তর সেঞ্চুরিতে আবাহনীর জয়
পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজ শেষ করে আবাহনীর ড্রেসিংরুমে ফিরেই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটালেন জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের দেওয়া ১৭৯ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আবাহনী ম্যাচ জিতেছে স্রেফ ১ উইকেট হারিয়ে, ১১০ বল হাতে রেখেই।
ওপেনিংয়ে নেমে পুরো ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন শান্ত। আগ্রাসী মেজাজে খেলে মাত্র ৯০ বলে ৭টি চার ও সমান ছক্কায় ১০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন তিনি। ওপেনার জিসান আলম (৬) দ্রুত ফিরলেও শান্তকে যোগ্য সঙ্গ দেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তিনি ৮৬ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করা অগ্রণী ব্যাংক ৪২.১ ওভারে ১৭৮ রানেই গুটিয়ে যায়, যেখানে নাসির হোসেনের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৫৬ রান।
আবাহনীর হয়ে রোহনত দৌলা বর্ষণ, রাকিবুল হাসান ও খালেদ আহমেদরা ২টি করে উইকেট নেন।
আরও পড়ুন:
ডিপিএলে জাকেরের সেঞ্চুরি, হৃদয়ের ১৭ বলে ফিফটি
তাইজুল-মুশফিকে মোহামেডানের জয়
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে আজ গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ২৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে মোহামেডান।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহামেডানের টপ অর্ডার ছিল দুর্দান্ত। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের ৮৬ (৭৭ বল), মুশফিকুর রহিমের ৭২ (৬২ বল) এবং আফিফ হোসেন ধ্রুবর ৫৫ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৪৫ রানের পাহাড় গড়ে তারা।
৩৪৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোহামেডানের স্পিনার তাইজুল ইসলামের স্পিন বিষে নীল হয় গুলশান।
মাত্র ৩৩.২ ওভারে ১০৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় দলটি। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ৯.২ ওভার বল করে ২৬ রান দিয়ে শিকার করেন ৫টি উইকেট, যা লিস্ট-এ ক্রিকেটে তাঁর চতুর্থ ফাইফার। পেসার ইবাদত হোসেন ৭ ওভারে ২৪ রান দিলেও উইকেটের দেখা পাননি।
এনামুলের সেঞ্চুরিতে প্রাইম ব্যাংককে হারাল সিটি ক্লাব
আজকের দিনের সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটেছে বিকেএসপিতে, যেখানে শিরোপাপ্রত্যাশী শক্তিশালী প্রাইম ব্যাংককে ১৯ রানে হারিয়ে দিয়েছে সিটি ক্লাব।
টস হেরে আগে ব্যাটিং করে সিটি ক্লাব ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৬৬ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে তিন অঙ্কের দেখা পান ৪০ বছর বয়সী মিডল অর্ডার ব্যাটার এনামুল হক এনাম। ২০১৩ সালে অভিষেকের পর দীর্ঘ ৯৬ ম্যাচ খেলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। ৯৭ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ১০৫ রান করে অপরাজিত থাকেন এনাম।
জবাবে ২৬৭ রান তাড়া করতে নেমে পুরো ৫০ ওভার খেললেও ৯ উইকেটে ২৪৭ রানের বেশি তুলতে পারেনি প্রাইম ব্যাংক। ওপেনার আজিজুল হাকিম সর্বোচ্চ ৯৫ রান করলেও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি। সিটি ক্লাবের বোলার এনামুল হক আশিক নেন ৫টি উইকেট।
রান বন্যা ও সেঞ্চুরির মহোৎসব
লিগের অন্য ম্যাচগুলোতে ছিল ব্যাটারদের রান বন্যা। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ৭ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে। প্রথমে ব্যাটিং করে ফজলে মাহমুদ রাব্বির ১৩২ রানের (১১৩ বল) দানবীয় ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেটে ৩২৪ রান তোলে বসুন্ধরা। পরে রাব্বি আহত অবসর হয়ে মাঠ ছাড়েন।
জবাবে ব্রাদার্স ইউনিয়ন পুরো ৫০ ওভার খেলে ৯ উইকেটে ৩১৭ রান তুলে থামে।
বসুন্ধরা স্পোর্টস ক্লাবে ৪৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ঢাকা লেপার্ডস ৩০ রানে হারিয়েছে রূপগঞ্জ টাইগার্সকে। লেপার্ডসের ইফতেখার হোসেন ইফতির ৯১ রানের ওপর ভর করে ২৭৬ রান তোলে দল। জবাবে রূপগঞ্জ টাইগার্সের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ১২৮ বলে ১০০ রানের লড়াকু সেঞ্চুরি করলেও তাঁর দল ২৪৬ রানে আটকে যায়।
এদিকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ৭ উইকেটে গুঁড়িয়ে দিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।
আগে ব্যাট করে গাজী গ্রুপ ২১০ রানে অলআউট হলে, রান তাড়া করতে নেমে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইরফান শুক্কুর তাণ্ডব চালান। মাত্র ৭৫ বলে ১৮টি চার ও ৫টি ছক্কায় ১২৭ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে ১০৬ বল বাকি থাকতেই রূপগঞ্জকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি।

