Bangladesh football team captain Jamal Bhuyan.বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।

কাবরেরা অধ্যায়ের অবসানের পর এবার লাল-সবুজের ডেরায় এসেছেন নতুন কোচ থমাস ডুলি। আর নতুন কোচের অধীনে নতুন মৌসুম শুরুর দিনেই সাবেক কোচকে নিয়ে রীতিমতো বোমা ফাটালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তিনি সরাসরি দাবি করলেন, কাবরেরা নাকি তাঁকে পছন্দই করতেন না!

হাভিয়ের কাবরেরা অধ্যায়ের পুরোটা সময় জুড়েই বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছেন জামাল ভূঁইয়া।

তবে স্প্যানিশ কোচের মেয়াদের শেষের বেশ কিছু ম্যাচে জামালকে দেখা গেছে এক ভিন্ন ভূমিকায়; যেখানে তিনি ছিলেন স্রেফ এক ‘নন-প্লেয়িং অধিনায়ক’। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে কোচের পাশে বসে দল ও নিজের প্রত্যাশার কথা শোনাতেন ঠিকই, কিন্তু পরদিন মূল ম্যাচে দেখা যেত সেরা একাদশে তাঁর নাম নেই।

জামাল মাঝে-সাঝে বদলি হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ পেলেও, তাঁর বেশিরভাগ সময়ই কাটত ডাগআউটের বেঞ্চে।

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর থেকে টানা জাতীয় দলে খেলছেন জামাল ভূঁইয়া। অভিজ্ঞতায় স্কোয়াডের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

অবশ্য ক্যারিয়ারের ক্রান্তিলগ্নে চলে আসায় এখন আর পুরো ৯০ মিনিট একই গতিতে মাঠ মাতানোর মতো শারীরিক অবস্থায় তিনি নেই। তারপরও কাবরেরা তাঁকে প্রতিটি স্কোয়াডে রেখেছেন, আর্মব্যান্ডও সঁপেছেন।

কিন্তু শেষ দিকে খেলার সুযোগ কমিয়ে দেওয়ায় সাবেক কোচের ওপর যে জামাল মনে মনে ক্ষুব্ধ ছিলেন, আজ তা প্রকাশ্যে এলো।

আরও পড়ুন:
কাবরেরার রেকর্ড, কিন্তু ৩৯ ম্যাচে ১০ জয়! শনিবার কি তবে বাঁকবদল?

নতুন কোচের অধীনে নতুন শুরুর আশা

আজ সোমবার (২৫ মে) ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের অফিসিয়াল প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে নতুন করে শুরুর কথা বলেন জামাল। সাবেক কোচকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, “নতুন কোচের অধীনে আমরা নতুন একটা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। যিনি আগে ছিলেন (কাবরেরা) উনি আসলে আমাকে পছন্দ করছিলেন না। এটা সবাই জানে, ওপেন সিক্রেট।”

“তাই আশা করি নতুন কোচের অধীনে নতুন শক্তি নিয়ে একদম নতুনভাবে সবকিছু শুরু হবে। আমি দলের জন্য আমার সেরাটাই দিব।”

ফিফা র‍্যাংকিংয়ের তলানির দল সান মারিনোর বিপক্ষে ঐতিহাসিক ম্যাচটি নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত অধিনায়ক।

কন্ডিশন নিয়ে জামাল বলেন, “প্রত্যাশা তো অবশ্যই অনেক বড়। প্রথমবার আমরা ইউরোপের মাটিতে গিয়ে খেলব। তাই অনুভূতিটা একটু আলাদা। ওখানকার আবহাওয়া এশিয়ার চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। সেই আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার পথ আমাদের খুঁজে নিতে হবে।”

ডুলির প্রথম ক্যাম্প ও স্কোয়াড আপডেট

সান মারিনো ম্যাচের এই ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন ৩০ জন ফুটবলার। এর মধ্যে ক্যাম্পের প্রথম দিন আজ সোমবার টিম হোটেলে যোগ দিয়েছেন ১৬ জন। ঘরোয়া লিগের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা আগামীকাল ক্যাম্পে যোগ দেবেন।

আর তিন হাইপ্রোফাইল প্রবাসী ফুটবলার—হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও জায়ান আহমেদ সরাসরি সান মারিনোতে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

দলের ম্যানেজার আমের খান ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “আজকে আমরা ১৬ জন ফুটবলারকে নিয়ে মিশন শুরু করেছি। কিংসের খেলোয়াড়রা কাল আসবে। আর হামজা, শমিত, জায়ান সরাসরি ওখানেই যোগ দেবে। আমরা ডিফেন্ডার তারেক কাজীকে নিয়েও কাজ করছি। ওর ২৯ মে ঢাকায় আসার কথা আছে। কোনো কারণে ২৯ মে আসতে না পারলে ওকে ভুটান থেকে কীভাবে সরাসরি সান মারিনো নেওয়া যায়, আমরা সেই চেষ্টাই করছি।”

আজ বিকেলে কিংস অ্যারেনায় এই ১৬ জন ফুটবলারকে নিয়েই মাঠের অনুশীলন শুরু করেছেন নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলি। ইতিমধ্যে ডুলির ইতালি বংশোদ্ভূত সহকারী কোচ মার্ক ব্রুনোও ঢাকায় এসে ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
যেভাবে ‘হোমওয়ার্ক’ করছেন হামজাদের নতুন কোচ থমাস ডুলি