আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নরা এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে বসতে যাওয়া বিশ্বমঞ্চের আসরে অন্যতম হট ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। তবে দল ঘোষণার পর পুরো ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম রিয়াল মাদ্রিদের কোনো ফুটবলার ছাড়াই দল গঠন করেছে স্পেন।
অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানি কারভাহাল এবং তরুণ ডিন হাইসেনের বাদ পড়ার কারণে রিয়ালের কোনো প্রতিনিধি নেই এই মেগা স্কোয়াডে।
আগামী জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ এইচ’ থেকে খেলবে স্পেন। যেখানে ১৫ জুন কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। এরপর ২১ জুন সৌদি আরব এবং ২৭ জুন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে তারা।
কাগজের কলমে ফ্রান্স বা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলোর পাশাপাশি স্পেনের এই তারকাখচিত স্কোয়াডটিকেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার মনে করা হচ্ছে।
গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগ
স্পেনের গোলরক্ষক পজিশন নিয়ে মধুর সমস্যায় রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। উনাই সিমন, ডেভিড রায়া এবং হুয়ান গার্সিয়ার মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা তিন গোলরক্ষক স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। মূলত অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের উনাই সিমনই একাদশে এক নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামবেন।
তবে তিনি শুরুতেই নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে আর্সেনালের ডেভিড রায়া কিংবা বার্সেলোনার হুয়ান গার্সিয়া যেকোনো মুহূর্তে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছেন।
আরও পড়ুন:
শতভাগ জয়, তবু অপেক্ষায় স্পেন
ডিফেন্সে সার্জিও রামোস, কার্লেস পুয়োল বা জর্ডি আলবার মতো কিংবদন্তি লিডারদের অভাব এবার স্পষ্ট। অনভিজ্ঞতার কারণে রক্ষণভাগকে এই স্কোয়াডের সবচেয়ে দুর্বল অংশ বলা হলেও দে লা ফুয়েন্তে ভরসা রেখেছেন অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে। ডিফেন্সে আছেন ৩১ বছর বয়সী আইমেরিক লাপোর্তে ও মার্কোস লরেন্তে এবং ২৭ বছর বয়সী মার্ক কুকুরেয়া। তাঁদের সাথে তরুণ পাউ কুবারসি ও এরিক গার্সিয়ারা সামলাবেন রক্ষণভাগ।
মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ
মাঝমাঠে স্পেনের রয়েছে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি। ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি থাকবেন মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে। তাঁর সঙ্গে পেদ্রি এবং গাভির মতো বার্সেলোনার দুই বিস্ময়বালক মাঝমাঠের দখল ধরে রাখবেন। এছাড়া মার্টিন জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান রুইজ, মিকেল মেরিনো এবং আলেক্স বায়েনারা বাড়াবেন দলের গভীরতা।
তবে চোটের কারণে এই বিশ্বকাপ মিস করছেন তরুণ মিডফিল্ডার ফের্মিন লোপেজ।
আক্রমণভাগে স্পেনের সবচেয়ে বড় বাজি ১৮ বছর বয়সী ওয়ান্ডারকিড লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার এই তরুণ তুর্কি যদি স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেন, তবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তিনিই থাকবেন সবার চেয়ে এগিয়ে। উইংয়ে তাঁর সঙ্গী হিসেবে থাকবেন গতির ঝড় তোলা ২৩ বছর বয়সী নিকো উইলিয়ামস।
এছাড়া নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস, মিকেল ওয়ারজাবাল ও দানি ওলমোরা আছেন স্পেনের গোলকিপিং লাইনআপ ভাঙার অপেক্ষায়।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের শুরুতে লামিনে ইয়ামালকে পাচ্ছে না স্পেন!

