প্যারিসের তীব্র দাবদাহে ফ্রেঞ্চ ওপেনের চলতি আসরের সবচেয়ে বড় অঘটনের সাক্ষী হলো টেনিস বিশ্ব। ইনজুরির ধাক্কা আর শারীরিক অসুস্থতার কাছে হার মেনে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিলেন বিশ্বের এক নম্বর তারকা ইয়ানিক সিনার। আর্জেন্টিনার হুয়ান মানুয়েল চেরুন্দোলোর বিপক্ষে পাঁচ সেটের মহাকাব্যিক লড়াইয়ে হেরে ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো এই ইতালিয়ান তারকার। ২০০৯ সালে রাফায়েল নাদালের পর এবারই ছেলেদের একক ট্রফির জন্য সবচেয়ে বড় ফেবারিট ভাবা হচ্ছিল ইয়ানিক সিনারকে।
কিন্তু প্যারিসের কোর্ট ফিলিপ চ্যাট্রিয়ারে শেষ পর্যন্ত এক ট্র্যাজিক হারের গল্প লিখলেন তিনি।
জয়ের দোরগোড়া থেকে অবিশ্বাস্য পতন
ম্যাচের শুরুটা দেখে কেউ ভাবতেও পারেনি এমন এক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।
প্রথম দুই সেটে দাপট দেখিয়ে ৩-৬, ২-৬ ব্যবধানে জিতে জয়ের বন্দরের দিকেই এগোচ্ছিলেন ইয়ানিক সিনার।
এমনকি তৃতীয় সেটেও ৫-১ গেমে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ২৪ বছর বয়সী এই তারকা।
ঠিক সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়। হঠাৎ করেই কোর্টে ইয়ানিক সিনারের চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং তিনি টানা ১১টি পয়েন্ট হারান। এরপরই তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
আরও পড়ুন:
অপ্রতিরোধ্য আলকারাজ-সিনার, সামনে জোকোভিচ-জভেরেভ দেওয়াল
তীব্র গরমে অসুস্থতা ও ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত
প্যারিসের তাপমাত্রা তখন ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এমন চরম আবহাওয়ায় কোর্টে দাঁড়াতেই পারছিলেন না ইতালিয়ান তারকা। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার সময় ইয়ানিক সিনারকে বলতে শোনা যায়, তাঁর মাথা ঘুরছে এবং বমি বমি ভাব হচ্ছে।
এরপর মেডিকেল টাইমআউট নিয়ে তিনি ড্রেসিংরুমে যান।
কোর্টে ফিরে আসলেও চেনা ছন্দের ছায়াও ছিলেন না তিনি। যেখানে পাওয়ার আর নিখুঁত শটে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিচ্ছিলেন, সেখানে হুট করেই তাঁর শটের গতি ঘণ্টায় ১০ মাইল কমে যায়।
এর পূর্ণ সুবিধা নিয়ে র্যাঙ্কিংয়ের ৫৬ নম্বর তারকা চেরুন্দোলো ৭-৫ ব্যবধানে তৃতীয় সেটটি জিতে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন।
ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বপ্নভঙ্গ
শারীরিক সমস্যার কারণে এরপর আর ম্যাচে বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ গড়তে পারেননি ইয়ানিক সিনার। চতুর্থ ও পঞ্চম সেটে স্রেফ উড়ে যান তিনি।
চেরুন্দোলো চতুর্থ সেট ৬-১ এবং পঞ্চম সেটও ৬-১ গেমে জিতে মাঠ ছাড়েন। এই হারের মাধ্যমে ইয়ানিক সিনারের টানা ৩০ ম্যাচ জয়ের অবিশ্বাস্য যাত্রার অবসান ঘটল। গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর এটিই তাঁর প্রথম পরাজয় এবং চলতি মৌসুমের ক্লে-কোর্টে প্রথম হার।
এই মেগা টুর্নামেন্টে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ আগেই ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়ায় ইয়ানিক সিনারের সামনে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করার সুবর্ণ সুযোগ ছিল, যা এই হারে ধূলিসাৎ হয়ে গেল। বিশ্বের এক নম্বর তারকার এই অকাল বিদায়ের ফলে এখন রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের পথে বড় সুবিধা পেয়ে গেলেন কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ।
আরও পড়ুন:
সিনার-আলকারাজকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন আত্মবিশ্বাসী জোকোভিচ

