গতবার ডাগআউটে বসেই কেটেছিল পুরো মৌসুম। এবার পাকিস্তান সুপার লিগে (PSL) সেই পেশোয়ার জালমির হয়েই মাঠে নামার সুযোগ পেলেন নাহিদ রানা। তবে অভিষেকটা মোটেও সুখকর হলো না বাংলাদেশের এই গতির তারকার জন্য। উইকেটশূন্য থাকার পাশাপাশি এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন তিনি।
অভিষেকেই সবচেয়ে খরুচে বোলার
করাচি জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল নবাগত হায়দরাবাদ কিংসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল পেশোয়ার জালমি। আসরে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে এসে একাদশে সুযোগ পান Nahid Rana। তবে ৩ ওভার বোলিং করে ৩০ রান দিয়ে বসেন তিনি, পাননি কোনো উইকেটের দেখা।
পিএসএল অভিষেকে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে বোলিংয়ের রেকর্ড এখন এই তরুণ পেসারের দখলে। এর আগে এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন শরীফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন; যাদের দুজনেরই অভিষেক ম্যাচে ইকোনমি রেট ছিল ৭.৭৫। রানা ১০ ইকোনমি নিয়ে তাদের ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠেছেন।
পাওয়ার প্লে-তে রানার ওপর ঝড়
টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছিল হায়দরাবাদ। Peshawar Zalmi’র স্পিনার ইফতিখার আহমেদের ঘূর্ণিতে মাত্র ৩৪ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল তারা। তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে রানা বোলিংয়ে এলে তার ওপর চড়াও হন হায়দরাবাদের ব্যাটাররা।
আরও পড়ুন: নাহিদ রানা এক্সপ্রেসে পাকিস্তান জ্বলেপুড়ে ছারখার!
সেই এক ওভারেই ১৭ রান দেয় পেশোয়ার, যার মধ্যে ৪ রান লেগবাই হওয়ায় রানার ব্যক্তিগত খাতায় যোগ হয়নি। নিজের করা ১৮ বলের স্পেলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা হজম করেন বাংলাদেশের এই বোলার।
পিএসএল অভিষেকে যেমন করেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা:
| বোলার | ফ্র্যাঞ্চাইজি | ইকোনমি | উইকেট | প্রতিপক্ষ | সাল |
|---|---|---|---|---|---|
| নাহিদ রানা | পেশোয়ার জালমি | ১০ | ০ | হায়দরাবাদ কিংসমেন | ২০২৬ |
| শরীফুল ইসলাম | পেশোয়ার জালমি | ৭.৭৫ | ০ | রাওয়ালপিন্ডিজ | ২০২৬ |
| রিশাদ হোসেন | লাহোর কালান্দার্স | ৭.৭৫ | ৩ | কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স | ২০২৫ |
| সাকিব আল হাসান | করাচি কিংস | ৬.৫ | ১ | লাহোর কালান্দার্স | ২০১৬ |
| মোস্তাফিজুর রহমান | লাহোর কালান্দার্স | ৫.৫ | ২ | মুলতান সুলতানস | ২০১৮ |
আরও পড়ুন: ‘চাঁপাই এক্সপ্রেস’ নাহিদ রানা বললেন ‘নিজেকে ব্র্যান্ড মনে করি না’
বাবরের আস্থার প্রতিদান মিলল না
পেশোয়ার অধিনায়ক Babar Azam ইনিংসের দশম ও ১৮তম ওভারে আবারও রানাকে বোলিংয়ে আনেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওভারে যথাক্রমে ৯ ও ৮ রান খরচ করেন তিনি। যদিও ১৮তম ওভারে একটি উইকেট পড়েছিল, তবে সেটি ছিল রানআউট। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো হায়দরাবাদ ১৮.২ ওভারে ১৪৫ রানেই গুটিয়ে যায়।
ইনিংসের শেষ ওভারটি সম্ভবত রানার জন্যই বরাদ্দ রেখেছিলেন বাবর, কিন্তু ১০ বল আগেই প্রতিপক্ষ অলআউট হওয়ায় সেই সুযোগ আর আসেনি। মজার ব্যাপার হলো, এই ম্যাচে রানার চেয়েও খরুচে বোলিং করেছেন তার সতীর্থ শরীফুল ইসলাম।

