A picture from the Bangladesh vs Inida football match.বাংলাদেশ-ভারতের ফুটবল ম্যাচের দৃশ্য। ছবি: সাফ

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় আসর ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে বাফুফে নির্বাহী কমিটির সাম্প্রতিক নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে আগামী এক বছরের (২০২৬-২৭) যে খসড়া ক্রীড়া ক্যালেন্ডার পেশ করা হয়েছে, সেখানে সাফ ফুটবলকে ঘিরে বড় কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, দেশের মাটিতে সাফের ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে ভেন্যু তালিকায় এসেছে এক বড় চমক।

আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সম্ভাব্য স্বাগতিক বা আয়োজক ভেন্যু হিসেবে বাফুফে এবার কেবল ঢাকার ওপর নির্ভর করছে না।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ভেন্যুর পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট জেলা স্টেডিয়াম এবং ফুটবল উন্মাদনার ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামকেও ভেন্যুর তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে সাফের মতো বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের এই পরিকল্পনা ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

সূচি নিয়ে কাটেনি ক্যালেন্ডার বিভ্রাট

ভেন্যু নির্বাচন নিয়ে বড় ঘোষণা আসলেও, টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়ানোর সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে বাফুফের বার্ষিক ক্যালেন্ডারে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা বা ধোঁয়াশা প্রকাশ পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও সাফের মূল সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টুর্নামেন্টটি পূর্বনির্ধারিত সেপ্টেম্বর মাসের পরিবর্তে দুই মাস পিছিয়ে আগামী নভেম্বর মাসে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাফুফে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে যে বার্ষিক বর্ষপঞ্জি জমা দিয়েছে, সেখানে সাফ ফুটবল আয়োজনের সময়টি এখনো পুরনো সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসেই উল্লেখ করা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সূচির এই পরিবর্তনের সাথে বাফুফের ঘরোয়া ক্যালেন্ডার দ্রুত সমন্বয় করা না হলে ক্লাব ফুটবল ও ঘরোয়া লিগের সূচিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

মাঠের মালিকানা ও বাফুফের প্রস্তুতি

সাফ ফুটবলের ম্যাচগুলো ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে সফলভাবে আয়োজন করার পেছনে বাফুফের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

সিলেট ও চট্টগ্রামের স্টেডিয়ামগুলো বাফুফের অধীনে পুরোপুরি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি গত কয়েক মাস ধরে ঝুলে রয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ও বাফুফের মধ্যে এখনো এই সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়নি।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অবশ্য এই মাঠ সংকট দ্রুত সমাধান করে সাফ ফুটবলসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের জন্য স্টেডিয়ামগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে প্রস্তুত করার তাগিদ দিয়েছেন।

বাফুফে আশা করছে, দ্রুতই এই চুক্তি সম্পন্ন হবে এবং সাফের স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোকে বিশ্বমানের ভেন্যুতে স্বাগত জানাতে পারবে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশেই হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, ভেন্যু থাকছে দুটি