দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় এক সুখবর নিয়ে আসছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ফিফা, এএফসি কিংবা সাফ অনূর্ধ্ব দলগুলোর ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির মারপ্যাঁচে পড়ে গত কয়েক বছর ধরে বাফুফে নিজেদের উদ্যোগে কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারছিল না। দেশের মাটিতে বিদেশি দলগুলোর অংশগ্রহণে জমকালো কোনো ফুটবল উৎসব দেখার যে হাহাকার তৈরি হয়েছিল, তা এবার কাটতে যাচ্ছে। ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন বার্ষিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডারে (বর্ষপঞ্জি) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট যুক্ত করেছে ফেডারেশন। বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের স্মরণে দেশের মাটিতে শুরু হতে যাচ্ছে ‘শহীদ জিয়া আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ’ ফুটবল টুর্নামেন্ট।
সদ্য সমাপ্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে বাফুফে নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে এই মেগা টুর্নামেন্টের পরিকল্পনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে উত্থাপন করা হয়। সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ফুটবলকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশনার অংশ হিসেবেই বাফুফে এই আন্তর্জাতিক আসরটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
কেন এই টুর্নামেন্ট বাফুফের জন্য বড় পরীক্ষা?
বাফুফের খসড়া ক্যালেন্ডারে দেখা গেছে, জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন ফুটবল মৌসুমে জাতীয় দল ও বয়স ভিত্তিক দলগুলোর ওপর দিয়ে ঠাসা সূচির ধকল যাবে।
বিশেষ করে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে শুরু হবে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইপর্ব। এর মাঝেই এএফসি ও সাফের একাধিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হবে বাংলাদেশকে। এতসব ব্যস্ততার মাঝেও দেশের ফুটবলকে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে ব্রান্ডিং করতে এবং ফুটবলারদের বিশ্বমানের এক্সপোজার দিতে ‘শহীদ জিয়া আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ’ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে টুর্নামেন্টটি আয়োজনের সবুজ সংকেত মিললেও এর চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে এখনো কাজ করছে ফেডারেশন।
বাফুফের পেশ করা প্রাথমিক খসড়ায় ‘শহীদ জিয়া আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ’-এর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, টুর্নামেন্টটি ঠিক কোন উইন্ডোতে বা কোন মাসে অনুষ্ঠিত হবে এবং ভেন্যু হিসেবে কোন কোন স্টেডিয়ামকে বেছে নেওয়া হবে—তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
ঢাকার বাইরেও কি যাবে চোখ?
বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও ভেন্যু দ্রুতই চূড়ান্ত করা হবে।
তবে দেশের ফুটবলের বর্তমান মাঠ সংকটের কথা বিবেচনা করে ঢাকার বাইরেও ভেন্যু খোঁজার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ করে বাফুফে যেহেতু সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের মতো ভেন্যুগুলো সরাসরি নিজেদের অধীনে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তাই ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম বা কমলাপুর স্টেডিয়ামের পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রামেও এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের কয়েকটি ম্যাচ গড়ানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই টুর্নামেন্টটি যাতে দেশের ফুটবলকে আন্তর্জাতিক স্পটলাইটে নিয়ে আসে এবং তৃণমূলের ফুটবলারদের উজ্জীবিত করে, সে লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী আয়োজক কমিটি গঠনের কথাও ভাবছে বাফুফে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে হঠাৎ লিংকডইনে যা লিখলেন থমাস ডুলি

