নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৮৩ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য। শুরুটা একদমই আশাপ্রদ ছিল না বাংলাদেশের। ৯ ওভারে স্কোরবোর্ডে মাত্র ৬৬ রান। ম্যাচ যখন হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখনই ২২ গজে শুরু হলো তাওহিদ হৃদয় নামের এক ঝড়ের। ২৭ বলে ৫১ রানের অপরাজিত এক ইনিংসে চড়ে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিল টাইগাররা। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে হৃদয় জানালেন, ‘অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স’ মন্ত্রেই আজ কুপোকাত হয়েছে কিউইরা।
শুরু থেকেই ছিল আক্রমণের পরিকল্পনা
রান তাড়ায় যখন ওভারপ্রতি দশের বেশি রান প্রয়োজন, তখন ক্রিজে গিয়ে সময় নেওয়ার বিলাসিতা দেখাননি হৃদয়। প্রথম বলে রান না পেলেও পরের বল থেকেই চড়াও হন বোলারদের ওপর। বেন লিস্টারকে বাউন্ডারি আর ইশ সোধিকে স্লগ সুইপে ছক্কায় উড়িয়ে বুঝিয়ে দেন নিজের পরিকল্পনা।
সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় বলেন, “দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী রান দরকার ছিল। আমার পরিকল্পনা ছিল আমি আক্রমণ করব। কারণ, আমি যদি তা না করি, দলের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যেত।”
ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসের জয়গান
এদিন শুধু হৃদয় নন, পারভেজ হোসেন ইমনের ২৮ বলে ৫৭ রানের ঝোড়ো জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরে শামীম হোসেনের ১৩ বলে ৩১ রানের বিধ্বংসী ক্যামিও জয় নিশ্চিত করে।
আরও পড়ুন: বিপিএলের ‘ওপেনার’ তাওহিদ হৃদয় জাতীয় দলে কী করবেন
সতীর্থদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হৃদয় বলেন, “৫-৬ নম্বর পজিশনে প্রতিদিন ফিফটি হবে না। কিন্তু শামীম ও ইমনের ইনিংসগুলো আমার কাছে ফিফটির চেয়েও বড় মনে হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে এমন ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশেষ করে শামীমের ‘নো লুক’ ছক্কায় মুগ্ধ হৃদয় জানালেন, এমন শট খেলার সামর্থ্য আমাদের দেশে খুব কম ব্যাটসম্যানেরই আছে।
দায়িত্ববোধ ও অভিমানের সুর
টি-টোয়েন্টিতে চার নম্বরে নেমে ম্যাচ জেতালেও হৃদয়ের কণ্ঠে ছিল কিছুটা আক্ষেপ। ওয়ানডেতে ৪ নম্বরে প্রায় ৪০ গড়ে রান করলেও ইদানীং তাঁকে নামানো হচ্ছে ৬ নম্বরে।
ব্যাটিং পজিশন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হৃদয় খানিকটা অভিমানী স্বরে বলেন, “পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝবেন আমি ৪ নম্বরে কেমন খেলি। খেলার ইচ্ছা তো থাকেই, কিন্তু দলটা তো আমার নিজের না। ম্যানেজমেন্ট হয়তো অন্য অপশনকে ভালো মনে করেছে।”
তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে যেকোনো পজিশনে খেলতে তিনি প্রস্তুত। এমনকি ওপেন করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন এই তরুণ তুর্কি।
আরও পড়ুন: হৃদয়ের নিঃসঙ্গ লড়াই, বাংলাদেশ হারলো বড় ব্যবধানে
বদলে যাওয়া টি-টোয়েন্টি মানসিকতা
গত এক বছরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের ধরন বদলেছে। টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে এখন আর পুরো দল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে না। হৃদয় মনে করেন, অভিজ্ঞতাই এই পরিবর্তনের মূল কারণ।
তাঁর ভাষায়, “এখন যারা খেলছে সবার ৩০টির বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। টপ অর্ডার রান না পেলে মিডল অর্ডারকে দায়িত্ব নিতেই হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নুইয়ে থাকলে কাজ হয় না।”

