বিশ্বকাপ সামনে রেখে টুখেলের বড় স্কোয়াড।

থমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড ফুটবল দল এখন এক নতুন অধ্যায়ে। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে উরুগুয়ে ও জাপানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য ৩৫ সদস্যের বিশাল স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড। তবে এই স্কোয়াড বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় পরিষ্কার—ইংল্যান্ড এখন আক্রমণভাগে প্রতিভার জোয়ারে ভাসলেও রক্ষণভাগ নিয়ে টুখেলের কপালে চিন্তার ভাঁজ এখনো মোছেনি।

আক্রমণভাগে ‘মধুর’ মাথাব্যথা

ইংল্যান্ডের বর্তমান স্কোয়াডে ফরোয়ার্ড এবং অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের তালিকা দেখলে যে কেউ ঈর্ষা করবে। হ্যারি কেইন, ফিল ফোর্ডেন, জুড বেলিংহাম, কোল পালমার এবং বুকায়ো সাকার মতো বিশ্বসেরা তারকারা তো আছেনই, তার ওপর যোগ হয়েছেন লিডস ইউনাইটেডে পুনর্জন্ম পাওয়া ডমিনিক ক্যালভার্ট লুইন। এমনকি হালের সেনসেশন মরগান রজার্সও এখন বেলিংহামের একাদশে জায়গার জন্য বড় হুমকি।

টুখেলের এই ‘ওভারলোড’ আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের রক্ষণ চুরমার করার ক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে ‘নাম্বার ১০’ পজিশনে কাকে খেলাবেন, তা নিয়ে টুখেলের এখন মধুর মাথাব্যথা। বেলিংহামের মতো সুপারস্টারের ওপরও যে টুখেল অতিরিক্ত নির্ভরশীল নন, তা তিনি আগেভাগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

রক্ষণে অভিজ্ঞতার হাহাকার ও ট্রেন্ট-রহস্য

আক্রমণভাগ যতটা শক্তিশালী, ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ঠিক ততটাই নড়বড়ে মনে হচ্ছে। কাইল ওয়াকার ও কিরান ট্রিপিয়ার অবসর নেওয়ায় এবং রিস জেমস ইনজুরিতে থাকায় রাইট-ব্যাকে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এর মাঝেও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ডকে স্কোয়াডের বাইরে রাখা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, টুখেল হয়তো ট্রেন্টের রক্ষণাত্মক সামর্থ্যে এখনো পুরোপুরি আস্থা পাচ্ছেন না।

জন স্টোন্সের মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে নিয়মিত খেলতে পারছেন না। ফলে রক্ষণে অভিজ্ঞতার অভাব মেটাতে টুখেলকে শেষ পর্যন্ত ৩-৩ বছর বয়সী হ্যারি ম্যাগুয়েরের ওপরই ভরসা রাখতে হয়েছে। ম্যাগুয়েরের প্রত্যাবর্তন মূলত ইংল্যান্ডের সেন্ট্রাল ডিফেন্সে বিকল্পের অভাবকেই প্রকটভাবে ফুটিয়ে তুলছে।

কেইন-নির্ভরতা কি ইংল্যান্ডের কাল হবে?

৩২ বছর বয়সী হ্যারি কেইন এখনো ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন। কিন্তু টুখেলের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো—কেইনের কোনো চোট। অলি ওয়াটকিন্স ফর্মে না থাকায় এবং ক্যালভার্ট লুইন দীর্ঘদিন পর ফেরায় কেইনের কোনো উপযুক্ত ব্যাকআপ এখনো তৈরি হয়নি। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে কেবল একজনের ওপর গোল করার দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া ইংল্যান্ডের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

নতুনের আহ্বান ও টুখেলের দর্শন

জেমস গার্নারের মতো তরুণ প্রতিভা কিংবা জেসন স্টিলের মতো অভিজ্ঞ গোলকিপারকে ট্রেনিং স্কোয়াডে রাখা প্রমাণ করে যে, টুখেল গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে দল সাজাতে চাচ্ছেন। তিনি এমন একটি ভারসাম্য খুঁজছেন যেখানে আক্রমণভাগের ধার বজায় রেখেও রক্ষণকে দুর্ভেদ্য করা যায়।

টুখেলের ইংল্যান্ড এখন এক ‘আনব্যালেন্সড’ দানবের মতো—যার আক্রমণভাগ বিধ্বংসী কিন্তু রক্ষণভাগ কিছুটা নড়বড়ে। ৩৫ জনের এই বিশাল বহর থেকে টুখেল কীভাবে তাঁর চূড়ান্ত বিশ্বকাপ একাদশ বেছে নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ‘ফুটবল কি সত্যিই ঘরে ফিরবে’ কি না।