ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায় লিখলেন লিওনেল মেসি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। আজ সকালে কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের শেষ ১৬-র ফিরতি লেগের ম্যাচে ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে গোল করে এই অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছান তিনি। তবে মেসির এই ব্যক্তিগত অর্জনের দিনেও ইন্টার মায়ামিকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের বিষাদ নিয়ে।
রোনালদোর চেয়েও কম ম্যাচে ৯০০
দীর্ঘদিনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ৯০০ গোল করতে লেগেছিল ১২৩৬টি ম্যাচ। সেখানে লিওনেল মেসি মাত্র ১১৪২ ম্যাচ খেলে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন। অর্থাৎ, পর্তুগিজ তারকার চেয়ে ৯৪ ম্যাচ কম খেলেই ৯০০ গোলের দেখা পেলেন এলএমটেন (LM10)। বর্তমানে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর গোলসংখ্যা ৯৬৫ (১৩১২ ম্যাচে)।
গোলের ব্যবচ্ছেদ: যেভাবে এলো ৯০০
মেসির ৯০০ গোলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে তাঁর অসাধারণ বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে:
পা ও শরীরের জাদু: বাঁ পায়ে ৭৫৫ গোল, ডান পায়ে ১১১ এবং হেডে ৩০ গোল। বাকি ৪টি গোল এসেছে শরীরের অন্যান্য অংশের সাহায্যে।
বক্সের ভেতরে-বাইরে: বক্সের ভেতর থেকে ৭২৪ গোল এবং বক্সের বাইরে থেকে করেছেন ১৭৬ গোল।
ডেড বল স্পেশালিস্ট: ফ্রি-কিক থেকে ৭০টি এবং পেনাল্টি থেকে ১১২টি গোল করেছেন তিনি।
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গোলের চিত্র
বার্সেলোনায় ১৭ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ারে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল করেছেন মেসি। এরপর পিএসজির হয়ে ৩২ গোল এবং বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে ৯৩ ম্যাচে ৮১ গোল করেছেন তিনি। আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে মেসির গোলসংখ্যা ১১৫ (১৯৬ ম্যাচে)।
প্রিয় প্রতিপক্ষ ও প্রিয় সতীর্থ
মেসির গোলক্ষুধা সবচেয়ে বেশি ছিল স্প্যানিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে। সেভিয়ার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৫টি গোল করেছেন তিনি। এছাড়া আতলেতিকো মাদ্রিদ (২৩) ও রিয়াল মাদ্রিদের (১৭) জালে বারবার বল পাঠিয়েছেন তিনি। মেসিকে গোল করানোয় বা অ্যাসিস্টে সবার উপরে আছেন তাঁর বন্ধু ও বর্তমান মায়ামি সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ (৪৭টি)।
আরও পড়ুন: মেসি-রোনালদোর চেয়েও এগিয়ে! কে এই রাউল জিমেনেজ?
কোচদের অধীনে সাফল্য
কোচ পেপ গার্দিওলার অধীনে বার্সেলোনায় থাকাকালীন ২১৯ ম্যাচে ২১১ গোল করেছিলেন মেসি। এছাড়া লুইস এনরিকে (১৫৩ গোল) এবং আর্নেস্তো ভালভের্দের (১১২ গোল) অধীনেও তিনি শতকের ঘর পেরিয়েছিলেন।
বিদায়ের সুর মায়ামি শিবিরে
ন্যাশভিলের বিপক্ষে ৭ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি মায়ামির। ৭৪ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান এসপিনোজ্জার গোলে সমতায় ফেরে ন্যাশভিল। প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র হওয়ায় অ্যাওয়ে গোল নিয়মে কপাল পোড়ে ইন্টার মায়ামির। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়লেও ফুটবল ভক্তদের মনে গেঁথে থাকবে মেসির এই ঐতিহাসিক ৯০০তম গোলের মুহূর্তটি।

