গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিষয় নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের চেলসির বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পাওয়া। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। তবে এবার বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই সাবেক গোলরক্ষক ও বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
বিতর্কের মূলে কী ছিল?
সম্প্রতি আমিনুল হক একটি সাক্ষাৎকারে জানান যে, জাইমা রহমান লন্ডনে স্কুল পর্যায়ে থাকাকালীন ফুটবল খেলতেন এবং চেলসির বয়সভিত্তিক দলে গোলরক্ষক হিসেবে তাঁর খেলার সুযোগ এসেছিল। এই বক্তব্য প্রকাশের পর নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টিকে নিয়ে ট্রল এবং সমালোচনা শুরু করে। অনেকের দাবি ছিল, এটি রাজনৈতিকভাবে বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।
আমিনুল হকের ব্যাখ্যা: বাস্তবচিত্র কী?
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি জাইমা রহমানের ফুটবল প্রীতির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন:
১. স্কুল পর্যায়ের ফুটবল: জাইমা রহমান লন্ডনে পড়াশোনা করার সময় স্কুলের ফুটবল দলে নিয়মিত খেলতেন। লম্বা হওয়ার কারণে গোলকিপিংয়ে তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল।
২. চেলসির সুযোগ: ইউরোপীয় দেশগুলোতে স্কুল পর্যায়ের প্রতিভাবান শিশুদের বড় ক্লাবগুলোর বয়সভিত্তিক একাডেমিতে ট্রায়াল বা খেলার সুযোগ আসা খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। জাইমার ক্ষেত্রেও তেমনটিই ঘটেছিল।
৩. পরিবারের সিদ্ধান্ত: আমিনুল হক জানান, খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান মেয়ের খেলাধুলার প্রতি অনুরাগী হওয়া সত্ত্বেও পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জাইমাকে একজন ভালো মানুষ ও শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেই তাঁরা পেশাদার ফুটবলের পথে পা বাড়াতে দেননি।
মিরপুর স্টেডিয়ামের সেই স্মৃতিচারণ
নিজের বক্তব্যের ভিত্তি হিসেবে আমিনুল হক একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানান। কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলা দেখার সময় জাইমা রহমান স্বয়ং আমিনুলকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “আঙ্কেল, আমি কিন্তু স্কুলে আপনার মতো গোলরক্ষক ছিলাম।”
মূলত জাইমা স্কুল পর্যায়ে কিপিং করতেন এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সেই স্মৃতিচারণই করেছিলেন।
ইউরোপে শিশুদের খেলাধুলা ও শিক্ষা
ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাইমা রহমানের ফুটবল প্রীতিও সেই ব্যবস্থারই অংশ ছিল। আমিনুল হক স্পষ্ট করেছেন যে, জাইমা একজন ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে বেড়ে উঠেছেন, তবে শেষ পর্যন্ত শিক্ষাজীবনকেই তিনি ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

