অবশেষে অবসান হলো বাংলাদেশ ফুটবল দলের ডাগআউট ঘিরে থাকা সব জল্পনা-কল্পনার। হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়াদের প্রধান কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন থমাস ডুলি। আজ শুক্রবার সকালে বাফুফে তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের এই মেগা সুখবর জানায়।
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচের গুরুদায়িত্ব নিয়ে ৬৫ বছর বয়সী এই জার্মান বংশোদ্ভূত মাস্টারমাইন্ড আজ সকাল ৯টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পা রাখেন। বাফুফে স্টাফরা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাঁকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাফুফে ভবনে যাওয়ার পথে নতুন কোচকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেছে।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী রোববার থেকেই বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পে দেখা যাবে উয়েফা প্রো লাইসেন্সধারী এই কোচকে।
আড়াইশ’ সিভির মহানাটক শেষে ডুলি
বাফুফে প্রথমে ২ বছরের জন্য কোচ নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। সেখানে জমা পড়া আড়াইশ’র বেশি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)।
সেখান থেকে একটি বিশেষ বাছাই কমিটি ২২ জনের তালিকা জাতীয় দল কমিটিকে দেয়। সেখান থেকে পরে ১১ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করে নেওয়া হয় ইন্টারভিউ।
উয়েফার সাবেক তারকা ক্রিস কোলম্যানকে নিয়ে বাফুফের তুমুল আগ্রহ থাকলেও এজেন্ট ফি সংক্রান্ত জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখেনি। শেষ পর্যন্ত স্টোকসের পরিবর্তে দীর্ঘ ৪৩ বছরের ফুটবল অভিজ্ঞতা সম্পন্ন থমাস ডুলির ওপরেই আস্থা রাখে ফেডারেশন।
আরও পড়ুন:
ক্রিস কোলম্যান হচ্ছেন না বাংলাদেশের কোচ
খেলোয়াড়ি জীবনে বুন্দেসলিগা ও বিশ্বকাপ অধিনায়কত্ব
জন্মসূত্রে জার্মান হলেও সাবেক এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের খেলোয়াড়ি জীবন কেটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ডুলি যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৮১টি ম্যাচ খেলে ৭টি গোল করেছেন।
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচেই মাঠে নামেন তিনি। এর চার বছর পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন ডুলি।
ক্লাব ফুটবলেও তাঁর প্রোফাইল বেশ ভারী।
বায়ার লেভারকুসেন ও শালকের মতো জার্মান ক্লাবে খেলেছেন তিনি, যার মধ্যে শালকের হয়ে ১৯৯৭ সালে জেতেন উয়েফা কাপ (ইউরোপা লিগ)। এছাড়া এফসি কাইজারস্লাউটার্নের হয়ে ১৯৯০–৯১ মৌসুমে বুন্দেসলিগা শিরোপাও জিতেছিলেন এই ডিফেন্ডার।
কোচিং ক্যারিয়ারের খতিয়ান ও এশীয় অভিজ্ঞতা
খেলোয়াড় হিসেবে সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি ডুলির কোচিং ডায়েরিও বেশ সমৃদ্ধ। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের প্রধান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের সহকারী হিসেবে ৪৫টি ম্যাচে ডাগআউট সামলেছেন তিনি।
এরপর এশিয়ান ফুটবলে পা রেখে ফিলিপাইন জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নেন। তাঁর অধীনে ফিলিপাইন দল ইতিহাস গড়ে অপরাজিত থেকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এবং নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে পৌঁছায়। এছাড়া তিনি ভিয়েতনামের ভি-লিগের ক্লাব ‘ভিয়েতেল’-এর স্পোর্টিং ও কেয়ারটেকার ডিরেক্টর এবং মালয়েশিয়ান ক্লাব শ্রী পাহাংয়ের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে তিনি গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন, যেখানে তাঁর অধীনে দল শেষ চার ম্যাচের সবকটিতেই জয়ের দেখা পায়।
বাফুফের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও প্রথম মিশন
সাধারণত ৩-৫-২ অ্যাটাকিং ফরমেশনে খেলতে পছন্দ করা ডুলিকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
বাফুফে মনে করে, বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের বিপুল সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও সফল ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবেন তিনি।
ঢাকায় পা রেখেই আজ ফেডারেশনের সঙ্গে বাকি সব আনুষ্ঠানিকতা সারবেন ডুলি। বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে ডুলির প্রথম মিশন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৫ জুন। সান মারিনোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে দেশটিতে উড়াল দেবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন:
হামজা-শামিতদের কোচ: সংক্ষিপ্ত তালিকায় ১০ জন, সিদ্ধান্ত ৩ দিনে

