জাপানের কাকামিগাহারাতে চলমান অনূর্ধ্ব-১৮ হকি এশিয়া কাপে রোববার (৩১ মে) মিশ্র এক দিন পার করল দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরাশক্তি বাংলাদেশ ও ভারত। পুলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে চীনের বিপক্ষে এক চরম উত্তেজনাকর লড়াইয়ের পর ৩-২ গোল ব্যবধানে হেরে গেছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৮ বালক দল। এর আগের দিন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অপরদিকে, পুল ‘এ’-এর অন্য এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্বাগতিক জাপানের গতির কাছে পাত্তাই পায়নি ভারতের অনূর্ধ্ব-১৮ বালক দল। ভারতকে ৪-২ গোলে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে জাপানি যুবারা।
চীনের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল বাংলাদেশ।
খেলা শুরুর নবম মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে এক চোখধাঁধানো গোলে দলকে লিড এনে দেন বাংলাদেশের মুন্না ইসলাম। মুন্নার এই একমাত্র গোলে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় লাল-সবুজ ব্রিগেড।
তবে বিরতি থেকে ফিরেই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয় অর্ধেকের শুরুতেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় চীন।
অবশ্য ১-১ সমতার দুই মিনিট পরেই তুহিন আকাশ অসাধারণ এক ফিল্ড গোল করে বাংলাদেশকে ম্যাচে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। তবে ম্যাচের তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষ দিকে চীনের আক্রমণভাগের দুর্দান্ত এক চালে আবারও সমতায় ফেরে ম্যাচ। এরপর চতুর্থ কোয়ার্টারের তৃতীয় মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ম্যাচে প্রথমবারের মতো লিড নেয় চীন (৩-২)।
ম্যাচের শেষ ১২ মিনিট সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণ চালিয়েও চীনের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ।
স্বাগতিক জাপানের ৪ গোল ও ভারতের আত্মসমর্পণ
দিনের অন্য ম্যাচে স্বাগতিক জাপানের বিপক্ষে শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিল ভারত। ম্যাচের ১৫ মিনিটে জাপানের অধিনায়ক ইয়োশিওকা মাহিরোর ডাইভিং ফিনিশে লিড পায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে অর্থাৎ ২০ মিনিটে ফুজিতানি ইউমার ব্যাকহ্যান্ড শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে জাপান (২-০)।
ম্যাচের ২৫ মিনিটে ভারতের আশিস তানি পুর্তি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান কমালে ২-১ স্কোরে বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অর্থাৎ ৩২ মিনিটে অধিনায়ক কেতান কুশওয়াহার গোলে ম্যাচে ২-২ সমতা এনেছিল ভারত। তবে ভারতের এই আনন্দ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র দুই মিনিট। ৩৪ মিনিটে পেনাল্টি কর্নারের এক দুর্দান্ত ভ্যারিয়েশনে ইয়াসুই কেনগো গোল করে জাপানকে আবারও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। এরপর ৪২ মিনিটে তাকাহাশি আওনের চোখধাঁধানো ফিল্ড গোলে ভারতের হার নিশ্চিত হয়ে যায়।
ম্যাচের বাকি সময় ভারত একাধিক আক্রমণ চালালেও জাপানের জমাট রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। ভারতের পরবর্তী ম্যাচ ১ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ বালিকা দল আগামীকাল চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি হবে। প্রথম ম্যাচে জাপানের বালিকাদের কাছে ১২-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল লাল-সবুজের কন্যারা।

