আইপিএল ২০২৬-এর মেগা ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) কাছে শিরোপা হারানোর ক্ষত দগদগে ছিলই, তার ওপর মাঝরাতে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেল গুজরাট টাইটানস দল। ফাইনাল ম্যাচ শেষে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম থেকে টিম হোটেলে ফেরার পথে গুজরাটের খেলোয়াড় ও স্টাফদের বহনকারী অফিশিয়াল টিম বাসটিতে আচমকা শর্ট সার্কিট হয়।
বৈদ্যুতিক এই গোলযোগের কারণে মুহূর্তের মধ্যে বাসের ভেতর কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো বাসে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
তবে বাসে থাকা সমস্ত ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তা দ্রুত এবং নিরাপদে গাড়ি থেকে নেমে যেতে সক্ষম হওয়ায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। রবিবার (৩১ মে) রাতে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর মাঝরাস্তায় প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় শুভমান গিলদের, যা ট্রফি হাতছাড়ার রাতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জন্য চরম এক বিষাদময় মুহূর্ত তৈরি করে।
এই বাসের দুর্ঘটনাটি যেন গুজরাট শিবিরের জন্য গত কয়েক দিনের চরম ধকল ও ক্লান্তিকর ভ্রমণ সূচিরই এক চূড়ান্ত ধারাবাহিকতা।
টুর্নামেন্টের শেষ লগ্নে এসে টাইটানসদের ওপর দিয়ে তীব্র ভ্রমণ ক্লান্তি গিয়েছে। গত ২৭ মে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলার উদ্দেশ্যে ধর্মশালা থেকে মুল্লানপুরে পাড়ি জমায় তারা। সেখানে ২৯ মে রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও বিপত্তি ঘটে আহমেদাবাদের বিমান ধরার সময়। ৩০ মে মুল্লানপুরের বৈরী ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গুজরাট দলের নির্ধারিত ফ্লাইটটি দীর্ঘ সময় বিলম্বিত হয়।
যার ফলে ফাইনালের ভেন্যুতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে শুভমান গিলদের শনিবার গভীর সন্ধ্যা হয়ে যায়।
অর্থাৎ, মেগা ফাইনালের আগের দিন অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগও পায়নি দলটি।
অজুহাত দিতে নারাজ সোলাঙ্কি
ফাইনালে আরসিবির কাছে মাত্র ১৫৫ রানে থমকে যাওয়া এবং ৫ উইকেটে হারের পেছনে কি লাগাতার ভ্রমণ ও ক্লান্তিই মূল প্রভাবক ছিল?
ম্যাচ পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নে টাইটানসের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট বিক্রম সোলাঙ্কি অবশ্য ক্লান্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেননি।
প্রতিপক্ষ আরসিবিকে কৃতিত্ব দিয়ে সোলাঙ্কি বলেন, “আমি স্রেফ এটুকু বলে আরসিবির প্রাপ্য কৃতিত্ব কেড়ে নিতে চাই না যে, আমরা এত অল্প দিনে অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছি এবং দল ক্লান্ত ছিল। আমরা এই ধরনের অজুহাত দেওয়ার মানসিকতা রাখি না।”
তিনি দলের লড়াইয়ের মানসিকতার প্রশংসা করে আরও যোগ করেন, “এটা সত্যি যে আমাদের ১৫৫ রানের পুঁজিটি ম্যাচের প্রেক্ষাপটে একেবারেই আদর্শ বা লড়াই করার মতো ছিল না। তবে এই অল্প রান নিয়েও ছেলেরা ডিফেন্ড করার জন্য যেভাবে জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করেছে, তা প্রশংসনীয়। আমরা অবশ্যই দলের মূল্যায়ন করব এবং কোথায় কী ভুল হয়েছে তা খতিয়ে দেখব, এটা স্বাভাবিক।”
“তবে আপনাকে এটাও মেনে নিতে হবে যে, মাঝেমধ্যে প্রতিপক্ষ দলও আমাদের চেয়ে অনেক বেশি গোছানো এবং ভালো ক্রিকেট খেলে।”
আরও পড়ুন:
কোহলি ঝড়ে গুজরাটকে হারিয়ে ফের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন আরসিবি

