আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহামঞ্চে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার লক্ষ্যে অফিশিয়ালি মাঠের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল। প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেসের অধীনে নিজেদের প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুশীলন সেশনে গা গরম করেছেন পর্তুগিজ ফুটবলাররা। আংশিক স্কোয়াড নিয়ে পর্তুগাল তাদের এই ক্যাম্প শুরু করলেও প্রথম দিন থেকেই দলের সাথে যোগ দিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ও পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আরও একবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে পর্তুগিজদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার ব্যাটন থাকবে এই কিংবদন্তি অধিনায়কের কাঁধেই।
স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড রবার্তো মার্তিনেস প্রথম দিনের অনুশীলনে ক্যাম্পে উপস্থিত ২৩ জন ফুটবলারকে নিয়ে কাজ করেছেন।
স্কোয়াডের বাকি চার তারকা— ভিতিনহা, নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস এবং গনসালো রামোস এখনো ক্যাম্পে যোগ দেননি।
ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেইকে (পিএসজি) উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতাতে উন্মুখ ভূমিকা রাখায় এই চার তারকাকে অতিরিক্ত কয়েক দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তারা দ্রুতই নিউ জার্সিতে দলের সাথে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
রোনালদোর অনুপ্রেরণায় তরুণ ও অভিজ্ঞদের মেলবন্ধন
পর্তুগাল দলে এখন অভিজ্ঞ সেনানিদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণদের দারুণ এক ভারসাম্য রয়েছে। দলের তরুণ ফুটবলাররা বর্তমান স্কোয়াডে ক্রমান্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উপস্থিতি পুরো দলের জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। ফুটবলের চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য মুখিয়ে থাকা একটি জাতির স্বপ্ন ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে এখনো ড্রেসিংরুম আগলে রেখেছেন সিআরসেভেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করায় এবার পর্তুগালকে নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী।
লক্ষ্য কেবলই সোনালী ট্রফি
অনুশীলন সেশন শুরু হওয়ার আগে দলের প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার রুবেন নেভেস।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পর্তুগাল দল এবার বিশ্বকাপে কেবল অংশগ্রহণ করার জন্য যাচ্ছে না, তাদের মূল লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চের ট্রফি জয় করা। নেভেস বলেন, “দলের বেশ কয়েকজন সদস্য তুলনামূলক তরুণ হলেও সর্বোচ্চ স্তরে খেলার এবং চাপ সামলানোর মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ও গুণগত মান এই দলের রয়েছে। পর্তুগালকে ঘিরে থাকা এই বিপুল প্রত্যাশা আমাদের জন্য কোনো বাড়তি চাপ নয়, বরং এটি মাঠে সেরাটা দেওয়ার বড় অনুপ্রেরণা।”
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে মাঠে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে উত্তর আমেরিকায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি এবং আফ্রিকান পরাশক্তি নাইজেরিয়া।
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ কে’-তে খেলবে পর্তুগাল, যেখানে তাদের বাকি তিন প্রতিপক্ষ হলো কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো।

