শুটিং কি তার সোনালি পথ হারিয়ে ফেলছে? এমন প্রশ্ন এখন ক্রীড়াঙ্গনের বাতাসে। দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনেকটা ‘নামমাত্র’ হতে চলেছে। যেখানে সাধারণত বড় বহর নিয়ে শুটাররা বিদেশের মাটিতে পদকের লড়াইয়ে যেতেন, সেখানে এবার ভারতের এই আসরে বাংলাদেশের হয়ে লড়বেন কেবল একজন—রবিউল ইসলাম। প্যারিস অলিম্পিকে অংশ নেওয়া এই শুটারই এখন শুটিং ফেডারেশনের একমাত্র আশা-ভরসা।
সংকটের নেপথ্যে বিশৃঙ্খলা
ফেডারেশনের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে কেবল বিশৃঙ্খলা আর অপ্রীতিকর সব ঘটনা। কেন মাত্র একজনকে পাঠানো হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে ফেডারেশনের ভেতরের অস্থির চিত্র। অলিম্পিক বৃত্তিপ্রাপ্ত তিন শুটারকে পাঠানোর কথা থাকলেও দুজনের একজন বহিষ্কৃত আর অন্যজন ব্যক্তিগত কারণে ক্যাম্পে নেই।
সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌসের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে হতাশা। তার মতে, বর্তমানে মানসম্মত শুটারের চরম আকাল চলছে। এমনকি যারা আছেন, তাদের মধ্যেও শৃঙ্খলার বালাই নেই। ডরমিটরিতে না থাকা কিংবা নিয়ম ভেঙে বাইরে ঘুরে বেড়ানোর মতো ঘটনাগুলো ফেডারেশনের পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে।
শুটিংয়ের ভাবমূর্তি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল
কেবল খেলোয়াড় সংকটই নয়, যৌন হয়রানির অভিযোগের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনায় শুটিংয়ের ভাবমূর্তি এখন তলানিতে। ফেডারেশনের সাবেক কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মাঠের খেলার চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনীতিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
যুগ্ম সম্পাদক জি এম হায়দারের বিরুদ্ধে শুটার কামরুন নাহার কলির অভিযোগ এবং এর জের ধরে কলির বহিষ্কার—সব মিলিয়ে শুটিং এখন গভীর অন্ধকারে। আলেয়া ফেরদৌস সরাসরিই বলছেন, তার দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি ফেডারেশনের এমন বেহাল দশা দেখেননি।
ভারত সফর ও নিরাপত্তাবোধ
আরেকটি আলোচনার বিষয় হলো ক্রিকেট দলের ভারত সফর বাতিল হওয়া। নিরাপত্তার কারণে যখন ক্রিকেটারদের ভারত পাঠানো হয়নি, তখন শুটিং দলের এই সফরটি কিছুটা বিস্ময় তৈরি করেছে। তবে রবিউল ইসলাম নৌবাহিনীর সদস্য হওয়ায় বিশেষ পাসপোর্টের সুবিধায় অনায়াসেই দিল্লি যেতে পারছেন। তার সাথে থাকছেন কেবল কোচ শারমিন আক্তার।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দেশ ছাড়ার কথা থাকলেও রবিউলের মূল পরীক্ষা ৫ ফেব্রুয়ারি। প্যারিস অলিম্পিকের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামছে বাংলাদেশ, তবে সেই মঞ্চে এবার লাল-সবুজের প্রতিনিধি মাত্র একজন।

