উত্তর আমেরিকার মাটিতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহোৎসব শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টে এবার শুধু ট্রফি জয়ের লড়াই-ই নয়, বিশ্বফুটবলের একাধিক জীবন্ত কিংবদন্তির সামনে সুযোগ রয়েছে ফুটবল ইতিহাসের রেকর্ড বই নতুন করে লেখার। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) এমন ১২টি অনন্য মাইলফলকের তালিকা প্রকাশ করেছে, যা এবারের মেগা বিশ্বকাপে ভাঙার অপেক্ষায় রয়েছে।
লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে থেকে শুরু করে ডাগআউটের মাস্টারমাইন্ডদের সামনে থাকা সেই ১২টি রেকর্ডের রোমাঞ্চকর বিবরণ দেখা যাক।
১. ইতিহাসের প্রবীণতম কোচ
বিশ্বকাপের ডাগআউটে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হওয়ার রেকর্ডটি জার্মানির অটো রেহাগেলের (২০১০ সালে গ্রিসের হয়ে ৭১ বছর)। এবার কুরাসাও দলের ৭৮ বছর বয়সী ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট সেই রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছেন। গত মে মাসে পুনরায় দায়িত্ব নেওয়া অ্যাডভোকাট আগামী ১৪ জুন জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামলেই হবেন বিশ্বকাপের ইতিহাসের বয়স্কতম কোচ।
এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রের ৭৪ বছর বয়সী মিরোস্লাভ কুবেক এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রোসও (৭৪) এই তালিকায় আছেন।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপ ২০২৬: ম্যান সিটির রাজত্ব, শতভাগ এলিটে স্পেন
২. নকআউটে বয়স্কতম গোলদাতা
পর্তুগালের ডিফেন্ডার পেপে ৩৯ বছর বয়সে নকআউট পর্বে গোল করে এই রেকর্ডের মালিক। এবার তা ভাঙার দৌড়ে আছেন ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ৪০ বছর বয়সী লুকা মদরিচ এবং এডিন জেকো।
মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বফুটবলের দুই মহাতারকা রোনালদো ও মদরিচ তাদের ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কখনোই কোনো গোল করতে পারেননি!
এবার কি পারবেন?
৩. খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি জয়
জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা বিশ্বকাপে ১৭টি ম্যাচ জিতে এই তালিকায় সবার ওপরে আছেন। মাত্র ১টি জয় দূরে থাকা আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি (১৬ জয়) গ্রুপ পর্বেই আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া কিংবা জর্ডানের বিপক্ষে ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
৪. বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা
এখানেও ১৬ গোল নিয়ে শীর্ষে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। এই রেকর্ড ভাঙার মূল দাবিদার লিওনেল মেসি (১৩ গোল) এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে (১২ গোল)। শেষ ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ১১ গোল করা এমবাপ্পে যেখানে দীর্ঘমেয়াদী হুমকি, সেখানে ক্লোসাকে ছুঁতে মেসির প্রয়োজন মাত্র ৩টি গোল।
৫. সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ আসর খেলা
ইতিহাসে ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসর খেলার রেকর্ড যৌথভাবে ম্যাথাউস, ওচোয়া, মেসি ও রোনালদোসহ সাতজনের। তবে মেসি, রোনালদো ও ওচোয়া যদি ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামেন, তবে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপ খেলার অনন্য অমরত্ব লাভ করবেন তারা।
৬. ডি-বক্সের বাইরে থেকে সর্বোচ্চ গোল
ব্রাজিলের কিংবদন্তি রিভেলিনো ডি-বক্সের বাইরে থেকে ৫টি গোল করে এই রেকর্ড নিজের করে রেখেছেন। আধুনিক ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি ইতিমধ্যেই বক্সের বাইরে থেকে ৪টি দূরপাল্লার গোল করেছেন। আর মাত্র ১টি গোল করলেই তিনি ব্রাজিলিয়ান লিজেন্ডকে স্পর্শ করবেন।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের সব আসরে ৮ ‘বুড়ো’, এবার এক আসরেই ৮ জন!
৭. কনিষ্ঠতম ‘গোল্ডেন বল’ জয়ী
১৯৯৮ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে আসরের সেরা খেলোয়াড় হয়ে এই রেকর্ড গড়েছিলেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও। এবার স্পেনের ১৮ বছর বয়সী বার্সা সেনসেশন লামিন ইয়ামাল হ্যাটট্রিক বা অতিমানবীয় কিছু করে এই রেকর্ড ভাঙার সবচেয়ে বড় দাবিদার।
৮. কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
জার্মানির হেলমুট শোন ২৫টি ম্যাচে ডাগআউটে থেকে এই রেকর্ডের একক মালিক। ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম ১৯টি ম্যাচ নিয়ে তাঁর পেছনে আছেন। দেশমের দল যদি এবার সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবে শোনকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়বেন তিনি।
৯. খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলা
ব্রাজিলকে পঞ্চম বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক কাফু সর্বোচ্চ ৩টি ফাইনাল (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) খেলেছেন। এবার লিওনেল মেসি (২০১৪, ২০২২) কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পের (২০১৮, ২০২২) সামনে সুযোগ রয়েছে কাফুর এই রেকর্ড স্পর্শ করার।
১০. গোলপোস্ট অক্ষত রাখা (ক্লিন শিট)
পিটার শিলটন ও ফ্যাবিয়ান বার্থেজ যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১০টি ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়ার রেকর্ড ধরে রেখেছেন। বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার ক্লিন শিট রয়েছে ৭টি। গ্রুপ পর্বে মিশর, ইরান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই রেকর্ড বাড়ানোর দারুণ সুযোগ পাবেন তিনি।
১১. ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক
আর্জেন্টিনার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (১৯৯৪ ও ১৯৯৯) হ্যাটট্রিক করেছেন। আগের বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেন, গনসালো রামোস এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সামনে এবার বাতিস্তুতাকে ছোঁয়ার মিশন।
১২. বদলি হিসেবে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা
ব্রাজিলের ডেনিলসন বিশ্বকাপের ম্যাচে সর্বোচ্চ ১১ বার সাইড বেঞ্চ থেকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছেন। ইংল্যান্ডের মার্কাস র্যাশফোর্ড ইতিমধ্যেই ৯ বার বদলি হিসেবে নেমেছেন। থ্রি লায়ন্সদের হয়ে আর ৩টি ম্যাচে বদলি নামলেই ডেনিলসনকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।

