২০২৪ সালের আগস্ট থেকে অ্যাডহক কমিটির বেড়াজালে বন্দি দেশের সিংহভাগ ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন। জোড়াতালির এই ব্যবস্থায় ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ ফেরার বদলে অনিয়মের অভিযোগই ছিল বেশি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকার গঠনের পর আবারও নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কার ও সচলতা ফেরাতে দ্রুততম সময়ে ফেডারেশনগুলোতে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।
নতুন চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের তোড়জোড়
বিসিবি, বাফুফে ও বিওএ বাদে দেশের প্রায় সব ফেডারেশনই এখন চলছে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে। বুধবার নবনিযুক্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক মন্ত্রণালয়ে প্রথম কার্যদিবস অতিবাহিত করেছেন। পদাধিকার বলে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদেরও চেয়ারম্যান।
তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পরই এনএসসি কর্মকর্তারা নির্বাচন কার্যক্রম শুরুর তোড়জোড় শুরু করেছেন। এনএসসির নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
স্থগিত প্রক্রিয়া সচল করার প্রস্তুতি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে গত কয়েক মাস ফেডারেশনগুলোর নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান জানিয়েছেন, “আমরা দ্রুত আবার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করবো। গলফ ফেডারেশনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আরও দুটি ফেডারেশন নির্বাচনের জন্য চিঠি দিয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত নির্বাচনের আওতায় আনা হবে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ অক্টোবর এনএসসি ‘অনতিবিলম্বে’ নির্বাচনের নির্দেশ দিলেও রাজনৈতিক ডামাডোলে তা থমকে গিয়েছিল।
ফেডারেশনগুলোতে ‘বিদায় আতঙ্ক’ ও তদবিরের হিড়িক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত অ্যাডহক কমিটিগুলোর অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ছিল যে, তারা খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত নন। এখন নতুন সরকার আসায় বর্তমান কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘বিদায় আতঙ্ক’ কাজ করছে।
অন্যদিকে, বিগত সময়ে নিজেদের ‘বঞ্চিত’ দাবি করে নতুন অনেক সংগঠক কমিটিতে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ‘নেক নজরে’ আসার জন্য মিরপুর থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত চলছে জোর তদবির।
সংস্কারের অপেক্ষা
বিগত ১৪ মাস ধরে ক্রীড়াঙ্গন যেভাবে অভিভাবকহীন বা অস্থায়ী ভিত্তিতে চলেছে, তাতে ঘরোয়া লিগ ও ইভেন্টগুলোর নিয়মিত আয়োজন ব্যাহত হয়েছে। নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অধীনে একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত ক্রীড়া সংগঠকরা নেতৃত্বে ফিরবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সাধারণ খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।

