২০০৮ সালে চড় খাওয়ার পর শ্রীশান্তের কান্নার সেই ঐতিহাসিক ছবি।২০০৮ আইপিএল শ্রীশান্তকে চড় মেরেছিলেন হরভজন। ফাইল ছবি

ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে পরিচিত ২০০৮ আইপিএলের ‘স্ল্যাপগেট’ বা চড়-কাণ্ড। দীর্ঘ দেড় দশক পার হওয়ার পর যখন মনে করা হচ্ছিল হরভজন সিং ও এস শ্রীশান্ত সব তিক্ততা ভুলে বন্ধুত্বের পথে হাঁটছেন, ঠিক তখনই নতুন করে জ্বলে উঠল আগ্নেয়গিরি।

একটি বিজ্ঞাপনে সেই পুরোনো চড় মারার ঘটনাকে উপহাসের ছলে উপস্থাপন করায় হরভজনের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন শ্রীশান্ত। রাগের মাথায় হরভজনকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্লক করার পাশাপাশি সব ধরণের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক এই কেরালা পেসার।

বিজ্ঞাপন থেকে ১ কোটি টাকা আয়

সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় হরভজন সিং একদল মানুষকে নষ্ট ইলেকট্রনিক সামগ্রী ‘চড়’ মেরে ঠিক করার কৌশল শেখাচ্ছেন। সেখানে শ্রীশান্তের ট্রেডমার্ক হেডব্যান্ড পরা এক তরুণকে ‘শ্রীমান’ বলে সম্বোধন করেন ভাজ্জি এবং ফ্রিজকে চড় মারার উদাহরণ দিয়ে বলেন, “সবকিছু চড় মেরে ঠিক হয় না।”

আরও পড়ুন: আইপিএল ‘ঈর্ষা’! কেভিন পিটারসনের ক্যারিয়ার ধ্বংসের নেপথ্য কাহিনী

মালয়ালম সংবাদমাধ্যম ‘মাতৃভূমি’-কে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে শ্রীশান্ত দাবি করেন, এই বিজ্ঞাপনে নিজের পুরোনো বিতর্কিত ইমেজ ব্যবহার করে হরভজন প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা আয় করেছেন।

শ্রীশান্তের অভিযোগ, হরভজন কেবল আর্থিক লাভের জন্য একটি স্পর্শকাতর এবং অপমানজনক ঘটনাকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছেন, যা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ।

ক্ষমা করেছি কিন্তু ভুলিনি: শ্রীশান্ত

শ্রীশান্ত জানিয়েছেন, এই বিতর্কিত বিজ্ঞাপনের শুটিং শেষ করার পর হরভজন স্বয়ং তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং বিজ্ঞাপনটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এতেই প্রচণ্ড চটে যান শ্রীশান্ত।

তিনি বলেন, “আমি তাঁকে স্পষ্ট বলেছি, আমি ক্ষমা করতে পারি কিন্তু ভুলতে পারি না। আমার বাবা-মা শিখিয়েছেন কেউ অন্যায় করলে তাঁকে ক্ষমা করে দিতে, কিন্তু ঘটনাটি ভুলে গেলে সেই ব্যক্তি আবারও একই কাজ করার দুঃসাহস দেখায়। হরভজন তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।”

শ্রীশান্তের মতে, ভাজ্জি আসলে পুরোনো ক্ষত খুঁচিয়ে বের করে নিজের পকেট ভারী করেছেন, যা অত্যন্ত অরুচিকর।

ভাজ্জির অনুশোচনা কি শুধুই অভিনয়?

বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন টিভি শো এবং ধারাভাষ্য চলাকালীন হরভজন বারবার শ্রীশান্তের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এমনকি গত বছর একটি সাক্ষাৎকারে অশ্বিনকে বলেছিলেন, শ্রীশান্তের মেয়ে যখন তাকে চড় মারার কথা জিজ্ঞাসা করেছিল, তখন তিনি অত্যন্ত লজ্জিত হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: এক ওভারেই ১১ বল! আইপিএলে আর্শদীপের লজ্জার রেকর্ড

তবে শ্রীশান্ত এখন দাবি করছেন, হরভজনের এই সব অনুশোচনা আসলে ‘পারফরম্যাটিভ’ বা লোক দেখানো অভিনয়।

তিনি বলেন, “এতদিন আমি ওকে বড় ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করতাম। কিন্তু এই বিজ্ঞাপনের পর আমার ভুল ভেঙেছে। মানুষের সামনে ও নিজেকে মহান দেখানোর চেষ্টা করে, কিন্তু তলে তলে সে আমার আবেগ নিয়ে ব্যবসা করছে। আমি এই ধরণের দ্বিমুখী আচরণ গ্রহণ করতে পারি না।”

ইনস্টাগ্রামে ব্লক ও সম্পর্ক ছিন্ন

শ্রীশান্ত এতদিন হরভজনকে ভাইয়ের মতো সম্মান করলেও এখন সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তির সাথে আমার এখন কোনো সম্পর্ক নেই। আমি ওকে ইনস্টাগ্রামে ব্লক করে দিয়েছি। ওর প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই, তবে ওর প্রয়োজনও নেই। ঈশ্বর ওর মঙ্গল করুক।”

শ্রীশান্ত আরও ইঙ্গিত দেন যে, অতীতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে হরভজনের অনুশোচনা প্রকাশ করাটা ছিল আসলে একটি ‘অভিনয়’।

আরও পড়ুন: আইপিএলে ইতিহাস! ৩০ লাখের প্রফুল হিঞ্জের অবিশ্বাস্য রেকর্ড

কী ছিল সেই ‘স্ল্যাপগেট’ বিতর্ক?

২০০৮ সালের প্রথম আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও পাঞ্জাব কিংসের ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেকের সময় শ্রীশান্তকে চড় মারেন হরভজন সিং। সেই ঘটনায় শ্রীশান্তের কান্নার ছবি ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। ফলে সেই মৌসুমের বাকি অংশ থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন হরভজন।

যদিও গত দেড় দশকে বহুবার জনসমক্ষে এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ভাজ্জি, কিন্তু সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনের কারণে সব সমীকরণ আবারও বদলে গেল।