ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, ডেভিড বেকহ্যাম ও স্টিভেন জেরার্ডের সাথে অনুশীলনে ওয়েইন রুনি।ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, ডেভিড বেকহ্যাম ও স্টিভেন জেরার্ডের সাথে ওয়েইন রুনি। ছবি: গেটি ইমেজেস

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইংল্যান্ডের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ওয়েইন রুনি পাশে পেয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের সেরা সব মিডফিল্ডারদের। রয় কিন, পল স্কোলস, স্টিভেন জেরার্ড কিংবা ডেভিড বেকহ্যাম—রুনির গোলবন্যার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল? সম্প্রতি ‘ওয়েইন রুনি শো’-তে নিজের সাবেক সতীর্থদের নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকার। সেখানে তিনি বেছে নিয়েছেন তাঁর দেখা সেরা ও ‘কমপ্লিট’ মিডফিল্ডারকে।

‘কমপ্লিট মিডফিল্ডার’ যখন স্টিভেন জেরার্ড

রুনির চোখে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সেরা পাঁচ মিডফিল্ডার হলেন—স্টিভেন জেরার্ড, পল স্কোলস, মাইকেল ক্যারিক, প্যাট্রিক ভিয়েরা এবং ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। তবে এদের মধ্যে একজনকে আলাদা করেছেন রুনি। তিনি হলেন লিভারপুল কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ড।

রুনির ভাষায়, “সবকিছুর বিচার করলে জেরার্ডই সেরা। ও ট্যাকল করতে পারে, শট নিতে পারে, গেম ডিক্টেট করতে পারে এবং অবিশ্বাস্য লং পাস দিতে পারে। আমি ওকে ইউনাইটেডের জার্সিতে দেখতে চেয়েছিলাম।”

স্কোলস ছিলেন বার্সেলোনার মানের খেলোয়াড়

সাবেক সতীর্থ পল স্কোলসকে নিয়ে রুনির মূল্যায়ন ছিল উচ্চমার্গীয়। তিনি স্কোলসকে জাভি, ইনিয়েস্তা ও সার্জিও বুসকেটসের সাথে তুলনা করে বলেন, “স্কোলস মূলত একজন বার্সেলোনা প্লেয়ার ছিল। ও এত বুদ্ধিমান ছিল যে প্রতিপক্ষ তাকে ধরার সুযোগই পেত না। ওর পাসিং এবং গেম সেন্স ছিল অবিশ্বাস্য।”

নেপথ্য কারিগর: পার্ক জি সুং ও ফ্লেচার

ম্যাচে যারা পাদপ্রদীপের আলোয় আসতেন না, সেই ড্যারেন ফ্লেচার ও পার্ক জি সুং-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রুনি। বিশেষ করে কোরিয়ান তারকা পার্কের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দলবদ্ধ খেলার মানসিকতা ইউনাইটেডের সাফল্যের বড় চাবিকাঠি ছিল বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন: রুনি বনাম ওয়ালকট: ২০০৮-এর ইউনাইটেড না আজকের আর্সেনাল, কে সেরা?

কারিশমায় বেকহ্যাম, বুদ্ধিতে ল্যাম্পার্ড

ডেভিড বেকহ্যামের নেতৃত্ব দেওয়ার ধরন ছিল আলাদা। রুনির মতে, বেকহ্যামের আভিজাত্য এবং মাঠে তাঁর বিরামহীন দৌড় তরুণদের জন্য উদাহরণ ছিল। অন্যদিকে, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের বক্সে ঢুকে গোল করার টাইমিং এবং ফুটবলীয় বুদ্ধিকে অনন্য বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন রুনি।

রুনির ‘আল্টিমেট’ মিডফিল্ডার ত্রয়ী

সাক্ষাৎকারের শেষে রুনি তাঁর স্বপ্নের তিন সদস্যের মিডফিল্ড বেছে নিয়েছেন। ভারসাম্য বজায় রাখতে তিনি ল্যাম্পার্ডের বদলে দলে রেখেছেন মাইকেল ক্যারিককে। রুনির সেই ত্রয়ী হলো— পল স্কোলস, মাইকেল ক্যারিক এবং স্টিভেন জেরার্ড।

রুনির মতে, এই তিনজন মিলে মাঠের মাঝভাগকে বিশ্বের যেকোনো দলের জন্য আতঙ্কে পরিণত করতে পারতেন।