মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে চুয়ামেনি।ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে চুয়ামেনি। ছবি: গেটি

বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায়ের রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার গ্যালারিতে বসে থাকতে হয়েছিল অরেলিয়েন চুয়ামেনিকে। হলুদ কার্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও, চলতি মৌসুমে তিনি রিয়ালের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অথচ খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন এই বার্নাব্যুতেই তাকে দুয়োধ্বনি শুনতে হতো এবং পারফরম্যান্স নিয়ে প্রতিটি পদে সন্দেহের মুখে পড়তে হতো।

সম্প্রতি পিভট পডকাস্ট-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময় এবং বর্তমান ফুটবল বিশ্বের জ্বলন্ত ইস্যু বর্ণবাদ নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার। তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়ুসের পাশে দাঁড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি।

বার্নাব্যুর চাপ ও ‘বলি’ হওয়ার গল্প

রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর শুরুর দিকের চাপ সম্পর্কে চুয়ামেনি বলেন, “আমাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল। ম্যাচের প্রথম ১০-২০ মিনিট আমি যখনই বল স্পর্শ করতাম, পুরো স্টেডিয়াম আমাকে দুয়ো দিত। এমন পরিস্থিতি হয় আপনাকে ধ্বংস করে দেবে, নয়তো আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত করবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “রিয়াল মাদ্রিদে চাপের স্তরটা সম্পূর্ণ আলাদা। আপনি ভালো বা খারাপ যা-ই করেন না কেন, মানুষ আপনাকে নিয়ে কথা বলবেই। এক বা দুই বছর আগে আমি তাদের চোখে একজন ‘খারাপ খেলোয়াড়’ ছিলাম। এখন আমি জানি, আমি যা-ই করি না কেন সমালোচনা হবেই। তাই আমি আর এসবে কান দিই না।”

আরও পড়ুন: আরবেলোয়া জমানায় রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিয়ুসের ‘পুনরুত্থান’

বর্ণবাদ রুখতে ‘খেলা বন্ধের’ হুঁশিয়ারি

সাক্ষাৎকারে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও প্রেস্তিয়ান্নিকে উদ্দেশ্য করে গ্যালারি থেকে আসা বর্ণবাদী আচরণের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন চুয়ামেনি। ভিনিসিয়ুসকে গ্যালারি থেকে ‘বানর’ বলে ডাকার মতো জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

চুয়ামেনি বলেন, “তারা তাঁকে বানর বলেছে। আমার মনে হয় পরবর্তী পদক্ষেপ হবে মাঠ থেকে উঠে যাওয়া বা খেলা বন্ধ করে দেওয়া। আমরা আর এমন দৃশ্য দ্বিতীয়বার ঘটার সুযোগ দেব না।”

চুয়ামেনির এই সরাসরি হুঁশিয়ারি ফুটবল বিশ্বে বর্ণবাদ বিরোধী লড়াইয়ে একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বারবার কেন বর্ণবাদের টার্গেট রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস?

ফুটবলে বর্ণবাদী আচরণের চিত্র

ফুটবলে বর্ণবাদী আচরণের গভীরতা বুঝতে কিছু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান কাজে আসবে।

বিগ ফাইভ লিগ: গত এক বছরে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রায় ৪৫% অন্তত একবার বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।

অনলাইন ট্রোলিং: ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো হাই-প্রোফাইল খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের উদ্দেশ্য করে আসা নেতিবাচক মন্তব্যের মধ্যে প্রায় ৬০% কোনো না কোনোভাবে বর্ণবিদ্বেষী।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলো গত মৌসুমে বর্ণবাদের দায়ে রেকর্ড সংখ্যক ক্লাবে জরিমানা ও আংশিক গ্যালারি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ১৫% বেশি।