আইসিসির নিশ্চিত চাকরি ছেড়ে এক বুক আশা নিয়ে দেশের ক্রিকেটের হাল ধরেছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। গত বছরের মে মাসে ফারুক আহমেদকে সরিয়ে তাকে যখন BCB সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন পরিবর্তনের এক হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। কিন্তু ১০ মাসের সেই অধ্যায় শেষ হলো একরাশ তিক্ততা আর অনিশ্চয়তায়। গত মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর বর্তমানে ক্রিকেটের কোনো দায়িত্বে নেই তিনি।
তবে এই ডামাডোলের মধ্যেই বুলবুলের সামনে এসেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় একটি পদের প্রস্তাব। কিন্তু সেই স্বপ্ন ডানা মেলার আগেই পিষ্ট হয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের ‘পাওয়ার পলিটিক্স’-এর যাঁতাকলে। বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বুলবুল নিজেই জানিয়েছেন, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) একটি বড় চাকরির সুযোগ হারালেন তিনি।
দুটি প্রভাবশালী দেশের ‘ভেটো’র কারণেই মূলত আটকে গেছে তাঁর এই নিয়োগ। বুলবুলের ভাষায়, “একটা বড় চাকরির সুযোগ এসেছিল এসসিসিতে। কিন্তু দুটো বড় বড় দেশ সেখানে ভেটো দিয়েছে। সেটা আর হয়তো হবে না।” তবে সেই বড় দেশ দুটির নাম উহ্য রয়ে গেছে।
গবেষণা ও বই লেখায় নতুন জীবন
খেলোয়াড়ি জীবনের ২৫ বছর এবং এসিসি ও আইসিসির ২০ বছরের বিশাল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বুলবুল এখন নিজেকে ক্রিকেটের তাত্ত্বিক দিকে সঁপে দিতে চান। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত একটি গবেষণা দলের হয়ে কাজ করবেন তিনি। তাঁর গবেষণার বিষয় হবে ‘হায়ার কনশাসনেস’ এবং ‘মাইন্ডফুলনেস ইন ক্রিকেট’।
এ ছাড়া বিসিবি সভাপতি হিসেবে কাটানো ১০ মাসের অভিজ্ঞতাসহ নিজের দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে একটি বই লেখার পরিকল্পনাও করছেন তিনি।
আরও পড়ুন: বুলবুলের সিদ্ধান্ত বদলে দিলেন তামিম ইকবাল!
বোর্ডের শেষ মুহূর্তের সেই নাটকীয়তা
বিসিবি সভাপতি হিসেবে বুলবুলের শেষ দিনটি ছিল বেশ নাটকীয়। সেদিন দুপুরেও তিনি পূর্বাচলে স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিকেলে বোর্ডে ফিরতেই শুনতে পান কমিটি ভেঙে দেওয়ার খবর। বুলবুলের দাবি, ‘শত শত বহিরাগত লোক’ তখন বোর্ড অফিসে ভিড় করে রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল।
পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “পাইলট (খালেদ মাসুদ) আমাকে অনুরোধ করে বলল, ‘ভাই, চলেন চলে যাই।’ ফাহিম ভাই, আমি আর পাইলট সেদিন মান-সম্মান নিয়ে বোর্ড ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম।”
বৈধতা নিয়ে পাল্টা লড়াই
কমিটি ভেঙে দেওয়া হলেও বুলবুল নিজেকে এখনো বিসিবির ‘বৈধ’ সভাপতি মনে করেন। তাঁর দাবি, গত বছরের নির্বাচন বিসিবির গঠনতন্ত্র মেনেই হয়েছে। এনএসসি কর্তৃক গঠিত বর্তমান অ্যাডহক কমিটি এবং যে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁর বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: বুলবুলের দাবি তিনি ‘বৈধ’, তামিমের কমিটি ‘অবৈধ’: লড়াই তবে আদালতে!
আপাতত ঢাকায় থাকলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন বুলবুল। ক্রিকেটের জন্য এতদিন পরিবারকে যে সময় দিতে পারেননি, সেই ‘ঋণ’ শোধ করতেই এই যাত্রা। তবে রিজিকের ওপর ভরসা রাখা এই কিংবদন্তি অধিনায়ক বিশ্বাস করেন, দেশের ক্রিকেটের জন্য তিনি সাধ্যমতো ভালো করার চেষ্টা করেছেন।

