Official press conference of Bangladesh Handball Federation ahead of IHF Trophy 2026.

বিশ্বজুড়ে যখন উত্তর আমেরিকার ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ঘরের মাঠে শুরু হতে যাচ্ছে আরও একটি জমজমাট আন্তর্জাতিক আসর। আগামী ১১ জুন ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগের দিন রাজধানী ঢাকায় পর্দা উঠছে পাঁচ দিনব্যাপী বয়সভিত্তিক পুরুষ আইএইচএফ (আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশন) ট্রফি-২০২৬। পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ৬টি দেশের তরুণ হ্যান্ডবলারদের এই মেগা লড়াই চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত।

আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া নিয়ে গঠিত ‘এশিয়ান জোন-২’-এর তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এই জোনে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি পরবর্তীতে পুরো এশিয়া মহাদেশের মূল পর্বে খেলার ছাড়পত্র পাবে।

দুই বিভাগে দুই ফরম্যাটের লড়াই

এবারের আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিচ্ছে ভারত, নেপাল, ইয়েমেন, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান এবং স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতাটি মূলত দুটি বয়সভিত্তিক গ্রুপে (অনূর্ধ্ব-১৮ এবং অনূর্ধ্ব-২০) অনুষ্ঠিত হবে।

অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগের দলগুলো দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়বে। যেখানে ‘এ’ গ্রুপে খেলবে ভারত, নেপাল ও ইয়েমেন।

অন্যদিকে শক্তিশালী ‘বি’ গ্রুপে মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দল সরাসরি সেমিফাইনালে খেলবে এবং ১৪ জুন মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগের ম্যাচগুলো রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে লিগ শেষে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দলটি সরাসরি চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরবে।

ট্রফি জয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের দুই কাপ্তান

ঘরের মাঠে এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে দীর্ঘ দুই মাস ধরে কঠোর ও নিবিড় অনুশীলন করেছে বাংলাদেশের দুই বয়সভিত্তিক দল।

অনূর্ধ্ব-২০ দলের অধিনায়ক রাতুল উদ্দিন গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে যাওয়ার ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী। রাতুল বলেন, “আমাদের দলগত প্রস্তুতি খুবই ভালো হয়েছে। ফাইনালে পা রাখতে হলে আমাদের গ্রুপ পর্বে সেরাটা দিতে হবে। আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে যাওয়া।”

অন্যদিকে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের কাপ্তান আসাদুল্লাহ আদিব দলের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, “আমরা গত দুই মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করছি। নিজেদের ঝালিয়ে নিতে জাতীয় দল, বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি এবং ঢাকা দলের বিপক্ষে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। প্রতিটি ম্যাচেই আমরা আমাদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

“যেহেতু নিজেদের চেনা মাঠে খেলা, তাই আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারব বলে আশা রাখি।”

টুর্নামেন্ট উপলক্ষ্যে আজ রোববার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ড. আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মোহাম্মদ মজনু মোল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মো: সালাউদ্দিন আহম্মেদ এবং টুর্নামেন্টের মূল স্পনসর প্রতিষ্ঠান ঢাকা আইসক্রীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং আবদুল্লাহ আল মামুনসহ অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের ম্যানেজারবৃন্দ।

অতীত ইতিহাস

দেশের মাটিতে হ্যান্ডবলের আন্তর্জাতিক আসর বসার ইতিহাস অবশ্য বেশ পুরোনো।

এর আগে প্রথমবার ২০০০ সালে ঢাকায় বসেছিল এশিয়ান উইমেন্স জুনিয়র হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। এরপর ২০১০ সালে ঢাকা এসএ গেমসে হ্যান্ডবল ডিসিপ্লিন অন্তর্ভুক্ত ছিল। সর্বশেষ ২০২৩ সালের মে মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল আইএইচএফ উইমেনস চ্যালেঞ্জ ট্রফি, যেখানে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৭ বিভাগে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল লাল-সবুজের বাংলাদেশ।

এবার ছেলেদের হাত ধরেও ঘরের মাঠে ট্রফি রেখে দেওয়ার মিশন বাংলাদেশের।