Indian captain Shubman Gill raising his bat to celebrate his 11th Test century at New Chandigarh.গিলের সেঞ্চুরি উদযাপন। ছবি: বিসিসিআই

ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। নতুন চন্ডীগড় স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো আয়োজিত পুরুষদের টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৬৮ রানের বিশাল পুঁজি খাড়া করেছে ভারত। স্বাগতিকদের এই রান পাহাড়ের মূল কারিগর অধিনায়ক শুভমান গিল এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার কে এল রাহুল। দুজনেই হাঁকিয়েছেন দৃষ্টিনন্দন দুটি শতরান।

তবে ভারতের এই দাপটের দিনে বড় আক্ষেপের নাম আফগানিস্তানের রিভিউ না নেওয়ার ভুল এবং ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের মহড়া।

২০১৮ সালে টেস্ট অভিষেকের পর ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো এই ফরম্যাটে খেলতে নেমে প্রথম দিনেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ল রশিদ খানের দেশ।

চন্ডীগড়ের তীব্র ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরমের মধ্যে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক গিল। পিচ শুরুর দিকে পেসারদের কিছুটা অসম বাউন্স ও সুইং দিলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে তা ব্যাটিংয়ের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়।

রাহুলের ভাগ্য এবং জসওয়ালের পতন

ভারতীয় ইনিংসের শুরুটা অবশ্য খুব একটা মন্থর বা সাবলীল ছিল না।

আফগান নতুন বলের বোলার আজমতুল্লাহ ওমরজাই এবং মোহাম্মদ সালিম উইকেটের সুবিধা নিয়ে ক্রমাগত অফ-স্ট্যাম্পের বাইরে বল করে ভারতীয় দুই ওপেনারকে পরাস্ত করার চেষ্টা করছিলেন। ইনিংসের ১১তম ওভারে ঘটে ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। ব্যক্তিগত ১৬ রানে থাকার সময় জিয়াউর আহমেদের একটি বাউন্সি বলে কাট করতে গিয়ে কিপারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন কে এল রাহুল। বোলার ও কিপারের জোরালো আবেদন সত্ত্বেও মাঠের আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেয়নি আফগানিস্তান।

পরবর্তীতে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল রাহুলের ব্যাটের কানা ছুঁয়েছিল।

এই জীবনদানের পূর্ণ সুযোগ নেন রাহুল। তবে অন্য প্রান্তে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি যশস্বী জসওয়াল। মোহাম্মদ সালিমের করা ১২তম ওভারের একটি ইনসুইঙ্গার লেগ সাইডে ফ্লিক করতে গিয়ে কিপারের গ্লাভসবন্দী হন তিনি।

২৪ রান করে জাইসওয়াল বিদায় নিলে সালিম পান নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট উইকেট।

সাই সুদর্শনের লড়াই ও জাজাইয়ের ‘ফ্লাইং ক্যাচ’

দ্বিতীয় উইকেটে রাহুলের সাথে জুটি বাঁধেন তরুণ সাই সুদর্শন। নতুন বলের ধার কমে আসতেই আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হন সুদর্শন।

ওয়ানডাউনে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন তিনি। মাঝপথে অভিষেক হওয়া আফগান স্পিনার নানগেয়ালিয়া খারোতের বলে সুদর্শনের দেওয়া একটি কঠিন ক্যাচ প্রথম স্লিপে মিস করেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। তবে ৮১ রানে থাকা অবস্থায় সালিমের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন সুদর্শন, যা ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে এক অবিশ্বাস্য ডাইভ দিয়ে তালুবন্দী করেন উইকেটকিপার আফসার জাজাই।

সুদর্শনের বিদায়ে ভাঙে ১৩১ রানের দারুণ এক জুটি।

গিল-রাহুলের সেঞ্চুরি ও পান্তের ফিফটি

বিকেলের সেশনে চন্ডীগড়ের উইকেট কিছুটা স্পিন বান্ধব হতে শুরু করে। অধিনায়ক শাহিদি নিজে স্লো বোলিং করে ভারতীয় ব্যাটারদের কিছুটা চাপে রাখার চেষ্টা করলেও অন্য প্রান্তের বোলারদের লাইন-লেন্থের অভাবের ফায়দা তোলেন গিল। টি-ব্রেকের পর আফগান বোলিং আক্রমণকে রীতিমতো চূর্ণ-বিচূর্ণ করে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি তুলে নেন ভারত অধিনায়ক। ১১টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস।

অন্যপ্রান্তে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করার ঠিক পরের বলেই (১০০ রান) জিয়াউরের বলে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ দিয়ে বসেন রাহুল। টেস্ট ইতিহাসে ঠিক ১০০ রানে আউট হওয়ার তালিকায় এটি রাহুলের তৃতীয় ঘটনা। এরপর নিজের ৫০তম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামা ঋষভ পান্ত ক্রিজে এসে গিলের সাথে যোগ দেন।

শুরুতে কিছুটা রয়েসয়ে খেললেও পার্ট-টাইম স্পিনার আব্দুল মালিকের এক ওভারে টানা ৩টি ছক্কা মেরে নিজের চেনা আগ্রাসী রূপ দেখান পান্ত।

দিনের শেষ ওভারে ৭০ বলে নিজের অর্ধশতক (ফিফটি) পূর্ণ করেন পান্ত। দিনশেষে শুভমান গিল ও ঋষভ পান্ত অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

আফগানিস্তান পুরোনো বল দিয়েই দিনের খেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত ১ম ইনিংস: ৩৬৮/৩ (৮৩ ওভার) (শুভমান গিল ১০০, কে এল রাহুল ১০০, সাই সুদর্শন ৮১, ঋষভ পান্ত ৫০; মোহাম্মদ সালিম ২/৭২, জিয়াউর ১/৬৪)।

আরও পড়ুন:
ভারতের অধিনায়ক আইয়ার: জাতীয় দলে সূর্যবংশী, ভাঙছে শচীনের রেকর্ড